ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

‘যে গাছে ফল ধরে না তাকে বলে নিষ্ফলা কিন্তু কেউ কি পরীক্ষা করে দেখেছেন মাটি? যে ডাল সহজে ভেঙ্গে যায় তাকে বলে ঠুনকো। কিন্তু তার উপর কি জমেনি অজস্র বরফ?’ ---- বার্টল ব্রেখট

স্বাগত

ফেলানি উপন্যাস পড়তে আপনাকে স্বাগত। এক্সপ্লোরার নয়, অনুগ্রহ করে মজিলা ফায়ার ফক্স খুলে বসুন

অন্যদের পড়তে বলুন


ফেলানি
                                    (সেপ্টেম্বর, '১৪ সংখ্যা ব্যক্তিক্রমে প্রকাশিত হয়েছে এই অধ্যায়।)
   
শারিটা ভালো করে চারদিকে গুঁজে মালতী মণিকে শুইয়ে দিলবাবা এসে তার কপালে হাত বুলিয়ে দিলহাতে লাঠি আর টর্চটা নিয়ে সে যাবার জন্যে বেরুলোকিছু একটা ভেবে আবারো দোয়ারমুখে ফিরে এলো হাতের লাঠিটি সে দরজার কাছে দাঁড় করিয়ে রাখলবৌয়ের ভারি দেহটা আলতো করে জড়িয়ে ধরে স্বর কোমল করে বলল, মালতী, মালতী আমার, তুই এমন মন খারাপ করে থাকবি নাআমি মানুষটা আছি না, বুঝি? আর মাত্র একটা রাত, কাল আমরা বাড়ি যাব,...সে বাড়ির কথা কিছু বলতে চাইছিল, পারে নি খানিকক্ষণ মালতীর মুখখানাতে হাত বুলিয়ে গেলবাইরে কেউ ডাকছেপাহারাতে এসেছে, এমন কেউ হবেসে মালতীকে ছেড়ে দিল, যা, শুয়ে থাক গিয়েআমি বাইরে থেকে তালা দিয়ে যাবতোকে কাঁচা ঘুম থেকে উঠতে হবে না।”।একবার মালতীর হাতের শাঁখাজোড়া ছুঁয়ে কিছু বলতে চাইল, বলল নামালতী মণির কাছে শুয়ে পড়লমুখে লেগে রইল এক পুরুষ হাতের স্পর্শমানুষটি তাকে শুধু কিছু সাহস দিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেএক গভীর প্রশান্তিতে তার উত্তেজিত স্নায়ু ক্রমে ক্রমে শীতল হয়ে এলো ঘুমিয়ে পড়ল সে
      
             একটা স্বপ্ন দেখছিল, তার কোনও আগাগোড়া নেইদমবাঁধা ছাইয়ের উপর একটা কুকুর গোল হয়ে শুয়ে আছে...কুকুরটার কাছে একটা শিশু, ওঁয়া ওঁয়া করে কাঁদছে তার পরেই সে ঝপাং করে একটা শব্দ শুনলজলে পাথর ছুঁড়ে মারলে যেমন শব্দ করে তেমনিশব্দটি বেড়েই যাচ্ছিলবেড়ে বেড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছিল, এক সময় যেন কানে তালা দেবার মতো অবস্থা হলোতার ঘুম ভেঙ্গে গেল, মণিও জেগে গেছেচারদিকে আশ্চর্য সব শব্দমণি তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল, সেও তাকে জড়িয়ে ধরলশব্দটা সে এবারে চিনতে পেলনাগরা আর শঙ্খমণি তাকে জিজ্ঞেস করল, মা কার ঘরে কীর্তন হচ্ছে ? সে কিছু একটা জবাব দিতে যাচ্ছিল, পারল না গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছেচেপে আসা গলাতে সামান্য থুথুও গিলতে পারছে না এমন অবস্থা হলোনাগরা আর শঙ্খের আওয়াজ বন্ধ হয়েছেএবারে মরণ কান্নাকিছু আতশবাজি , আতশবাজি ঠিক নয়, তার থেকেও জোরালো শব্দ শোনা গেলনাকে খারের মতো একটা গন্ধ এসে লাগলসে উঠে মণিকে ধরে ধরে দরজার কাছে গেলবাইরে থেকে বন্ধমণির বাবা বাইরে থেকে তালা দিয়ে গেছেমানুষটা চাইছিল না তাকে মাঝরাতে কাঁচাঘুম থেকে ওঠাতেসে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখল বাইরে চারদিকে লাল আলোএবারে সে পেছনের দরজাটা খুললবেরিয়ে যাবে না, ভেতরে থাকবে? একটার পর একটা ঘর আগুনে ছেয়ে ফেলছেহুইসেলের মতো তীক্ষ্ণ একটা শব্দ তার কানে এলোসে মণির মুখখানা চেপে ধরলতারপর তাকে নিয়ে বাড়ির কোনের পুকুরটাতে নেমে গেলপুকুর মানে একটা বেশ গভীর বড়সড় গর্তমানুষটার বড় শখ ছিল বাড়ির কোনাতে একটা পুকুর খুঁড়ে তাতে মাছ পোষবারমালতী যে বাড়িতে গিয়ে এখনো পা দেয় নি সেখানে বুঝি দুদুটো পুকুরওদের গ্রামটিতে বুঝি সব বাড়িতে একটা পুকুর রয়েইছেকিন্তু পুকুরে সে মাছ ফেলতে পারল নাএখানকার নদীটার জন্যেই বুঝি লোকে পুকুর খুঁড়তে পারেনা, নদী সব জল টেনে নিয়ে যায়কেউ শখ করে খুঁড়লেও ভরা বর্ষার ভারি বৃষ্টির পরেও জল ধরে রাখতে পারে নাজল জমাতো হয়কিন্তু অল্প রোদেই শুকিয়ে যায়পুকুরের জন্যে খোঁড়া গর্তগুলো আবর্জনা ফেলবার জায়গা হয়ে পড়েলম্বোদরের খোঁড়া পুকুরও আবর্জনা ফেলবার গর্ত হয়ে রইলআবর্জনা ফেলবার গর্তটিতে রি রি করা মশা আর আবর্জনার দুর্গন্ধের মধ্যে সে মণিকে নিয়ে বসে রইলদিন দুএক আগে বাড়ির কলাগাছ কতকগুলো পরিষ্কার করেছিল সমস্ত শুকনো কলাপাতা এনে এই গর্তটিতে ফেলেছিলদশ বারোটা কলা গাছ মা-ছেলেকে ঢেকে ফেলবার জন্যে যথেষ্ট ছিল
 
   
         একদল মানুষের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সঙ্গে একটা জীপগাড়ির চেনা শব্দঅল্প দিন থেকে এ ধরণের জীপ গাড়ি ওদের গাঁয়ে ঘন ঘন আসা যাওয়া করতে শুরু করেছিলকেটে ফেলা মালভোগ কলার গাছগুলোতে কেঁচো জন্মাতে শুরু করেছেসেই গাছগুলোতে পা দিয়েই পাতার ফাঁকে সে মাথাটা অল্প তুলে বাইরে তাকালোআগুনের আলোয় পুরো জায়গাটা আলোকিত হয়ে গেছেসে দেখতে পেল দুটো মানুষ দৌড়ে দৌড়ে এসে ঘরটিতে ঢুকেছেবুঝতে পেল শিবানীর দাদু আর...সে ভালো করে তাকালো শিবানীর বাবামানুষটা খোঁড়াচ্ছেএবারে মানুষটা পেছনের দরজাটা খুলছেনমানুষদুটোর পেছনে আরো বেশকিছু মানুষসম্পূর্ণ অচেনা পোশাক, চেহারা এমনকি হাঁটার ধরণলোকগুলো ঘরটাকে ঘিরে ফেলেছেঐ ঐ ওরা ঘরের দরজাগুলো বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়েছেকরছে কী ডাকাতগুলো? মালতীর নাকে পেট্রল আর কেরোসিনের গন্ধ এসে লাগলচোখের সামনে ওর ঘর দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করলভেতর থেকে দুটো মানুষের চীৎকারসে মণিকে কলাপাতার ভেতরে আরো বেশি করে ঢুকিয়ে দিলসে খামচে ধরে রেখেছে ভাঙ্গা দা খানাকোনও এক মহিলা রাস্তা দিয়ে দৌড়ে গেছে ... ঐ ধুম করে শব্দ একটা হয়েছে...ওই মানুষটি গড়িয়ে পড়েছে...লোকগুলো ওকে ঘিরে ফেলেছে... আধমরা মেয়েমানুষটিকে টুকরো টুকরো করে কাটছে...কোলের শিশুটিকে ঐ পোড়া ঘরটাতে ছুঁড়ে ফেলেছেনাগরা বাজছে, শঙ্খ বাজছেওর পেটেরটি কাত ফিরছেএকহাতে মণিকে ধরে সে নুয়ে নুয়ে কলাপাতার মাঝে আরো ঢুকে গেলতার পায়ে লাগছে পচা আবর্জনার ঠাণ্ডা ছোঁয়াহুঁইসেল বাজছে, লোকগুলো ওদিকে গেছে একদল লোক পুকুরগুলোর থেকে বাসন বর্তনগুলো বের করে এক জায়গায় জমা করছেঅন্যেরা টেনেটুনে বাক্সটাক্সগুলো লরিতে তুলছেসে আগুনের আলোতে স্পষ্ট দেখল কজন হাতে বর্শা বল্লম, চোখা চোখা ত্রিশূল নিয়ে আবর্জনাতে ভরা গর্তগুলো খুঁচিয়ে যাচ্ছেকেউ একজন মালতী যে পুকুরে লুকিয়ে ছিল, তার পাড়ে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে আদেশ দিয়ে বলল, গেলবারে এই রক্তচোষাগুলো গর্তে লুকিয়ে বেঁচে গেছিলএকটা গর্তও ছেড়ে দিবি নাযেখানেই বেশি গর্ত দেখবি খুঁচিয়ে যাবিবড় করে হৈ.........আওয়াজ তুলে ছেলেটি চলে গেলবর্শা বল্লম ত্রিশূল হাতে ছেলেগুলো শুকনো পুকুরেরে কাছে কাছে চলে এসেছেওদের বর্শা বল্লম ত্রিশূল শুকনো কলাপাতাতে লেগে খসখস করে যাচ্ছে কলাপাতার ডাঁটার স্তূপ পুরো একটা মানুষের সমান হয়ে পড়াতে মালতী আর মণির মাথার উপর উঠে গেছেতাতেই ওরা বর্শা বল্লম আর ত্রিশূলের খোঁচা থেকে আত্মরক্ষা করতে পারছেযদি কেউ একজন চেঁচিয়ে বলে, দে জ্বালিয়ে এই পুকুরেরে শুকনো কলাপাতাগুলো!যদি কেউ পোড়া ঘরে থেকে নিয়ে আসে একটুকরো জ্বলা কাঠ, একটুকরো অঙ্গার ! মালতী মণিকে আরো জড়িয়ে ধরেমণির গায়ে কুঞ্জলিকালেগে লেপটে আছেকলার খোসাগুলো অল্প খচমচ করে উঠেছে দলটির থেকে একটা ছেলে ফিরে এসে হাতের ত্রিশূলটা দিয়ে কলার পাতাগুলোকে খুঁচিয়ে দেয়াতে আরো একবার কিছুক্ষণ খসখসে শব্দ একটা হলোমালতী শ্বাস বন্ধ করে বসে রইলএকটা আগুনের ফুলকিও যদি ওরা এনে এখানে ফেলে দেয়! সে মণির মুখটা বুকে চেপে ধরলফাল্গুন মাসের বাতাস সোঁ সোঁ করে বইছে, সঙ্গে করে বেড়ে যাচ্ছে আগুনদলটি চলে গেছেওর কানে আর কোনও শব্দ আসছে নাহঠাৎ সে অনুভব করল এক উত্তাপ, কানে পড়ল ফট ফট করে একটা শব্দআগুন লেগেছেশুকনো কলাপাতাগুলোতে আগুন লেগেছেসে মণির হাতে ধরে পুকুরটা থেকে উঠে এলোপাড় ভেঙ্গে উঠতে ওর বেশ কষ্ট হলোমণির হাতে ধরে সে পাড়ে উঠল মণির দিকে তাকালো সেওর মুখে, গায়ে পচা আবর্জনাসে একবার হেলে দুলে জ্বলন্ত ঘরটার দিকে যেতে চাইলমণি ওর হাত ধরে টান দিলআবার নাগরার শব্দ, হৈ হুল্লোড়ের শব্দদুজনেই বাড়ির পাশের ছোট খালে নেমে গেলকেউ মাথা নুইয়ে যেতে থাকলে দেখা যায় না, লুকোনো যায়বর্ষাতে এই খালে জল থাকে, শীতে শুকিয়ে যায়শুকোলেও জায়গায় জায়গায় বালি পাথরগুলো ভিজে থাকেমায়ে ছেলেতে নুইয়ে নুইয়ে এই খাল দিয়ে এগুতে থাকলমালতী যেতে পারছিল নানোয়ালেই ওর শরীরটা যেন ভেঙ্গে ছিঁড়ে যায়এবারে সে হামাগুড়ি দিতে শুরু করলমণি ফিসফিসিয়ে বলল, মা,কলাপাতাগুলোতে আগুন...!খালের পারে পাড়ে মানুষের পায়ের শব্দ, বর্শা বল্লমের ঝনঝনাঝন শব্দমায়ে ছেলেতে দুজনেই বসে পড়ললোকগুলো চলে গেলএই খালটা দিয়ে যেতে থাকলে মরা পাটের খেত পাওয়া যাবেসেখানে পাটখেত ভেঙ্গে গাঁয়ের লোকে আড়াল তৈরি করে লুকিয়ে আছেনারকেল, চিঁড়া-মুড়ি গুটিয়ে রেখেছেআর গুটিয়ে রাখা আছে তির ধনুক, টর্চ লাইটগেলবারের গোলমালে ওখানে লুকিয়েই মানুষগুলো রক্ষা পেয়েছিলবিঘার পর বিঘা ছড়িয়ে আছে ঘন সবুজ পাটখেতের মাঝে লুকিয়ে আছে একদল ভয়ার্ত মানুষসে আরেকটু জোরে হামাগুড়ি দিতে আরম্ভ করলখালটা যেখানে শেষ হয়েছে সেখানে প্রচুর জমা পচা জলউপরে কচুরি পানাতে একটা ঘন স্তর পড়েছেএই খালটা পার হতেই আরম্ভ হয়েছে বিশাল মরাপাটের খেতএখানে খালটিতে বেশ জল রয়েছেকাদাতে হামাগুড়ি দিয়ে মালতীর কাপড়চোপড় জবজবে হয়ে গেছেঠিক যেন সারা গায়ে কাদা মাখা মহিষ একটি, এমন দেখাচ্ছিল ওকেসে মণির হাতে ধরে খাল থেকে উঠতে যেয়েও আবারো নেমে এলোট্রাক একটিতে একদল মানুষপেছনে আরো অনেক দলতারই দুএকটা এসে এই খালের থেকে অল্প দূরে দাঁড়ালো শঙ্খ বাজল, বাজল নাগরা শেষটাতে বাজল এক তীক্ষ্ণ হুইসেলের শব্দমায়-ছেলেতে আবারো ওই পচা খালটিতে নেমে কচুরিপানার নিচে গা ঢাকা দিলচতুর্দিকে শোনা গেল হৈ হৈ হুল্লোড়তারপর সৈনিকের মতো নানা দলে ভাগ হয়ে গিয়ে লোকগুলো পাটখেতের ভেতরে ঢুকে গেলঅল্প পরেই শোনা গেল বন্দুকের শব্দ, মানুষের আর্ত চীৎকারকচুরিপানাতে ঢাকা পচা খালটার উপর দিয়ে পেরিয়ে যাচ্ছে আগুনের হলকাপাট খেতের ভেতর থেকে উড়ে আসছে তিরসামান্য পরে শোনা গেল বন্দুকের, কিন্তু আলাদা ধরণের, শব্দএক একটা করে নয়, একাধারে অনেকগুলো গুলি চলবার মতো এক সমগ্র শব্দশব্দটি পাটখেতের ভেতরে চলে গেছেভেতরের মানুষের চীৎকার চেঁচামেচিও কমে গেছে বুকে কাঁপন তোলা লাগাতার শব্দটিও মিলিয়ে গেছেসে দেখতে পেল আকাশে অল্প অল্প আলো দেখা দিতে শুরু করেছে
      
     আকাশের অল্প আলোতে স্পষ্ট দেখতে পেল মোটা লম্বাটে মানুষ পাটখেতের ভেতর থেকে দৌড়ে আসছেপেছনে পেছনে পাটখেতের আড়ালে লুকোনো মানুষগুলোর আরো জনা দুইকেউ একজন একটা জাল ফেলে দিল মানুষটার উপরমানুষটি তার ছাই রঙের বন্দুকটা সহ গড়িয়ে ঐ জালে বাঁধা পড়ে গেল লোকগুলো তির,লাঠি, বাঁশের বল্লম যাতে পারে প্রবল আক্রোশে লোকটিকে খোঁচাতে শুরু করল চতুর্দিকে ফিনকী দিয়ে রক্ত ছড়িয়ে পড়লতারপর আবারো সব চুপ

           সে মণিকে ধরে কচুরিপানার থেকে বেরিয়ে এলোআকাশে আলো ফুটেছেআলোতে সে দেখল এক ঝাঁক হাতিতে যেন সবুজ পাটের খেতখানাকে পিষে চলে গেছেচতুর্দিকে মরা মানুষ আর রক্তের দাগসে মণির দিকে তাকালোজলে ভিজে ভিজে গায়ের চামড়াগুলো কুঁচকে গেছেগায়ে মুখে অনেকগুলো জোঁকএকটা ছাড়াতে গিয়ে রক্তের এক ছোট দলা ওর হাতে লাগলমণির বাবা? লোকটা কোথায় গেল? কই গেল মানুষটা! তোকে কাঁচা ঘুম থেকে উঠতে হবে না...বলে মানুষটা গেল কোথায় ? পাটখেতের মাঝে মাঝে যে মানুষগুলো পড়ে আছে তাদের মধ্যে...সে হঠাৎ যেন চোখে ধোঁয়াশা দেখতে পেল, পড়ে গেলপড়ে যাবার আগে সে দেখতে পেল কতকগুলো লোক ওর দিকে দৌড়ে আসছেধীরে ধীরে ওর চোখে নেমে এলো একখানা কালো চাদরচাদরখানা কাঁপতে কাপতে একসময় থেমে স্থির হয়ে গেল




টীকা:


) কুঞ্জলিকা: সংস্কৃত কিঞ্চলুক, কিঞ্চুলুক । তার থেকে বাংলা কেঁচো। কিন্তু এখানে শব্দটির মানে ঠিক তাই নয়। এই সংস্কৃত শব্দের কাছাকাছি অর্ধতৎসম শব্দ কেঞ্জুলিকা বা কেঞ্জেলুকা আছে সিলেটিতে। সিলেটিতে কেঁচু শব্দও আছে। কেঁচু আর কেঞ্জুলিকা শব্দর অর্থ আলাদা। এই প্রাণী অনেকটা খোলসহীন মাটির শামুকের মতো পিচ্ছিল, মাটিতে ঘাসে, গাছে , দেয়ালে ঘুরে বেড়ায়। ঘাস পাতা ইত্যাদি খেয়ে থাকে। অসমিয়া শব্দটি কুমজেলেকুৱাতাই কাছাকাছি সিলেটি বাংলা শব্দটিও রাখা গেল।

3 মন্তব্য(সমূহ):

ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

বাছাই পোষ্ট

অধ্যায় এক (১)

ফেলানি ( 'ব্যতিক্রম' মাসিক কাগজে ধারাবাহিক বেরুতে শুরু করল 'ফেলানি' জুন , ২০১৪ থেকে। )        ফে রিখানা ব্...

ই-মেইলে গ্রাহক হোন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

আমাকে চিঠি লিখুন

ভারতীয় ব্লগার দল

যারা পড়তে আসেন

ফেসবুকের সঙ্গীরা এ পথে জুড়তে পারেন

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন?

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন? ০২

যারা নিয়মিত ফেলানি পড়েন

যে ক'জন এখানে এলেন

কে কী বললেন

আমাদের অলঙ্করণ সহযোগী

বাংলা ব্লগের প্রবাহে জুড়ুন !

কালের পদধ্বনি

ক' ফোটা স্বচ্ছ জলের সন্ধানে

Powered by Blogger.

ফেলানি

I heart FeedBurner

Blog Archive

কেমন লাগল বলুন !

এখানে আমার অনুবাদ দেখুন

এই ব্লগ সম্পর্কে

ইংরাজি সাহিত্যের ডক্টরেট অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নামপাঠক-সমালোচক মহলে বিপুলভাবে সমাদৃত এই লেখক ইতিমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেনসেগুলো মধ্যে আছে ১৯৯৩তে পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সেতুনামের লিটিল ম্যাগাজিনের থেকে শৈলেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত সাহিত্য সেতু পুরস্কার, ১৯৯৫তে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮তে দিল্লির কথানামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দেয়া কথা পুরস্কার১৯৯৫তে অসম সাহিত্য সভার দেয়া বাসন্তী বরদলৈ স্মৃতি পুরস্কারদিতে চেয়েছিলকিন্তু তিনি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে সাহিত্য কর্মে তিনি লেখকের লিঙ্গভেদ মানেন না

১৯৯৪তে প্রকাশিত তাঁর অয়নান্তনামের উপন্যাসটি অসমিয়া উপন্যাসের প্রথম শ্রেণির গুটি কয় উপন্যাসের মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়ে থাকেঅয়নান্তের নবছর পর তিনি লেখেন এই বিখ্যাত উপন্যাস ফেলানি২০০৩এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গেল কয়েক দশকের জাতি-দাঙ্গাতে অভিশপ্ত ও অশান্ত অসমজাতি-দাঙ্গা ও উগ্রপন্থার শিকার দরিদ্র মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের এক মর্মস্পর্শী উপন্যাস এটিফেলানির চরিত্রগুলোর অবস্থান সমাজের প্রান্তে , কেন্দ্রে নয়সমাজ যে মানুষগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করছে তাদের প্রতীকআবার সমাজের কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে প্রান্তীয়তাতেই নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করবার যে প্রক্রিয়া তার ব্যঞ্জনা-ঋদ্ধ এক সত্তার নামও ফেলানিমৃত্যু যেমন সহজ তেমনি জীবনের প্রতি সুতীব্র ভালোবাসাও মৃত্যুর বিপরীতে উপস্থাপিতজাতি-ধর্ম নয়, সুবিশাল মানবতার পরিচয়েই ফেলানির পরিচয়ফেলানির পৃথিবীতে অজস্র চরিত্র আর বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে নিষ্করুণ সমাজ সত্য এবং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাঠক যাত্রা করবেন সামাজিক উপলব্ধির অন্য এক সীমান্তের দিকে

টংলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অরূপা দামলনামের সাহিত্য-সংস্কৃতি মূলক অব্যবসায়িক সাময়িকীর সম্পাদনা সহযোগীতাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলঃ মৃগনাভি ( ১৯৮৭), মেপল হাবির রং ( ১৯৮৯), মরুযাত্রা আরু অন্যান্য ( ১৯৯২), অয়নান্ত ( ১৯৯৪), মরুভূমিত মেনকা আরু অন্যান্য (১৯৯৫), কাঁইটত কেতেকী (১৯৯৯), পাছ চোতালর কথকতা (২০০০) , অরুণিমার স্বদেশ (২০০০), মিলিনিয়ামর সপোন (২০০২)


অনেকদিন ধরে আমার স্বপ্ন ছিল এই শিরদাড়া খাড়া করা উপন্যাসখানি বাংলাতে অনুবাদ করবার। এবারে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো


আমাকে নিয়ে

My photo
Tinsukia, Assam, India