ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

‘যে গাছে ফল ধরে না তাকে বলে নিষ্ফলা কিন্তু কেউ কি পরীক্ষা করে দেখেছেন মাটি? যে ডাল সহজে ভেঙ্গে যায় তাকে বলে ঠুনকো। কিন্তু তার উপর কি জমেনি অজস্র বরফ?’ ---- বার্টল ব্রেখট

স্বাগত

ফেলানি উপন্যাস পড়তে আপনাকে স্বাগত। এক্সপ্লোরার নয়, অনুগ্রহ করে মজিলা ফায়ার ফক্স খুলে বসুন

অন্যদের পড়তে বলুন





ফেলানি



সে কার্তিক শাইল আর সুহাগমণি দু'ধরণের ধানই আলাদা আলাদা করে রোদে শুকোলোধানগুলো দুটো ধারাতে ছড়িয়ে দিয়ে হাত পা মেলে উঠোনে বসলধানগুলো যখন সেদ্ধ করা হয়েই গেছে আসল কাজটাই সারা হয়ে গেছে, রাতে মুড়িগুলো ভেজে ফেলতে হবেকাল আবার বাজারবারমণি স্কুলে গেছেতিনটেতে ফিরবেরান্নাবান্নাও শেষস্কুলে যাবার আগে মণির জন্যে যে ভাত বসিয়েছিল তাতেই হয়ে যাবেবস্তির বাকি মানুষগুলোর মতো তারও এখন সন্ধ্যে সাতটা হতেই ভাত খেয়ে নিতে কোনও অসুবিধে হয় নাআটটা বাজলেই শুয়ে গভীর ঘুমে ঢলে পড়া , কাকভোরে ওঠা, বাজারে যাওয়া, নদীতে স্নান করা, মুড়ি ভাজা, বড়া তৈরি করা--সব কিছুই ওর জন্যে সহজ হয়ে পড়েছে
সে ধারার ধানগুলো একটু নেড়ে চেড়ে দিলহাতের তালুতে নিয়ে ধানগুলো একটু ভালোকরে দেখলধানগুলো সেদ্ধ করবার বেলা আজকাল আর কালীবুড়িকে দেখে দিতে হয় নাঠিক চুলের মতো ফাটা দিলেই ধানগুলো যে নামিয়ে নিতে হয়, সে কথা ও এখন জেনে গেছেওর হাতের মুড়ি এখন গুণেমানে কালীবুড়ির মতোই হয়আরেকটা নতুন কাজ শিখেছে সেমোড়া তৈরি করাবাজার থেকে এসে ভাত চারটা বসিয়ে মণি যতক্ষণে ওর পড়াশোনা শেষ করে ফেলানি একটা মোড়া তৈরি করে ফেলেবাজারে যেতে মুড়ির সঙ্গে করে মোড়াগুলোও নিয়ে যেতে ওর আজকাল কোনও অসুবিধে হয় না
 
 মোড়া বানাতে সে শিখেছে রত্নার মায়ের থেকেরোগাপটকা মেয়েমানুষটি যেভাবে দুইহাতে কাজ সেরে ফেলে দেখে সে অবাক হয়ে গেছিলরত্নার মায়ের তিন মেয়েবড়টিকে বিয়ে দিয়েছিলবিয়ে দেবার বেলা জানত না, ছেলেটি মদ খায়বুকের একটা দিক খেয়েই ফেলেছিলমেয়ে একটা জন্মাবার পরেই স্বামী হারালোশ্বশুরের ঘরে এখন বিধবার জীবন যাপন করছেমেজো মেয়েটি গুয়াহাটির একটি বাসাতে থাকেছোটটি বাড়িতে থাকেচার নম্বর মেয়েটি মারা গেছেরত্নার বাবা পান চাষ করত পানচাষিদের সবাই ওকে চেনেএখন মানুষটি কিছুই করে নাগরম কালে কাঁঠাল তলায় আর শীতের দিনে উঠোনের মাঝখানটিতে বসে থাকেমেজো-মেয়ের টাকা ক'টিতেই এখন সংসারের এটা ওটা ঝামেলা কাটিয়ে উঠতে হয়খাবার খরচ ঐ মোড়াগুলোতেই উঠে যায়একটা ছেলে সন্তান না থাকার যাতনা বাড়িটাকে চেপে ধরে রেখেছেহাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে বসে কাঁঠাল তলা থেকে, উঠোনের মধ্যি থেকে বুড়ো মানুষটা অনবরত বকতে থাকে, “ আমার যদি একটা ছেলে থাকত...আমার যদি একটা জোয়ান ছেলে থাকত...একটা ছেলে সন্তান...মানুষটার এই একটা কথাতেই গোটা বাড়ি নীরব করে রাখেরত্না দিদির দিয়ে যাওয়া, নিজে পরে আধা পুরনো হওয়া, মালিকনীর মেয়ের পুরোনো কাপড়গুলো পরেই বারান্দার বেড়াতে হেলান দিয়ে বসে থাকেএকটা খড়কুটোও এদিক ওদিক করে নাসেও আজকাল বাবার মতোই কথা বলতে শিখেছে, “ আমাদের একটা যদি বড় ভাই থাকত,” “ যদি একটা ছেলে থাকত...রত্নার মা এই দুটো চুপ করে বসে থাকা মানুষের মাঝে নীরবে নড়া চড়া করে থাকেভাত রাঁধে, রিজার্ভ থেকে খড়ি জোটায়, মোড়া তৈরি করে, বাজারে মোড়া নিয়ে যায়, চালডাল কিনে
      


         মালতী শলা তৈরি করে রেখেছে, সাইকেলের ট্যুব, প্লাস্টিকের রশি...সবই জোগাড় করে রেখেছেদুটো মোড়া আদ্ধেক আদ্ধেক বানিয়েও ফেললগাঁটগুলো দেবার বেলাতেই সমস্যা দাঁড়ালোঐ আধা তৈরি মোড়া একটা নিয়েই সে রত্নার মায়ের বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে গেল, যাবার বেলা ধানগুলো দেখবার জন্যে কালীবুড়িকে বলে গেল জোনের মায়ের বাড়ি পেরিয়ে তবে রত্নার মায়ের বাড়ি যেতে হয়আজ সকাল থেকে মানুষটি একবারও আসে নিবরের শরীর বেশি খারাপ হলো কি? না সে মুড়ি ভাজতে বসেছে? না কি জোনেরই কিছু একটা হয়েছে?


         জোনের মা উঠোনে এদিক ওদিক করছেমালতীকে দেখে ওর চিৎকার আরো বেড়ে গেলকাকেই বা অমন প্রাণ ঢেলে গালিগালাজ করছে? জোনের মায়ের বাড়িটা প্রায় নদীর পারেইজোনের বাবার এই বস্তিতে আসার হয়েছে অনেক বছরএই জায়গাটা সুবিধের দেখে বসত গড়েছিলনদীটা এতো কাছে ছিল নাবাঁক একটা বাড়তে বাড়তে নদীকে এ অব্দি নিয়ে এসেছেজোনদের বাড়ির গায়েই লেগে আছে রত্নাদের বাড়িরত্নার বাবাও জোনের বাবার কাছাকাছি সময়েই এখানে এসে ভিটে-বাসা করে বসেছিলওদের আসার বহু আগে থেকেই নদীর পারের বিশাল বটের তলার বাড়িটায় হরি ভাঙুয়া ছিলহরির দাদা ঠাকুরদারাও এ অঞ্চলেরই বাসিন্দা ছিলেনএই বস্তির বেশ একটা বড় অংশ হরি ভাঙুয়া তার বাবার থেকে পেয়েছিলরত্নার বাবা, জোনের বাবাদের দিয়ে শুরু করে ও আজ অব্দি ঐ মাটি বিক্রি করেই মদ ভাঙের খরচ বের করছেএই নদী, এই রিজার্ভের মতোই হরি ভাঙুয়া এখানে এমনই এক দৃশ্য যা কারোরই আর আলাদা করে চোখে পড়ে নাওর বাবার আমলের ঘরখানা মেরামতির অভাবে সেই কবেই খসে পড়েছেএকটা একটা করে সেই ঘরের বাঁশ-কাঠ নিয়ে হরি ভাঙুয়া বৌ ভাত রেঁধে শেষ করলএখন প্লাস্টিক আর খের দিয়ে তৈরি কাকের বাসার মতো একটা চালার তলায় পরিবারটি থাকেবটগাছের গায়ে হেলান দিয়ে আছে বলে ঘরটি ভেঙে পড়ে নিবট গাছটার ঝালরের মতো বেরুনো অজস্র শেকড়ের তলাতে একটি কালো পাথর তেল সিঁদুর দিয়ে রাখা আছেতার কাছেই কোনোক্রমে গামছা একটাকে নেংটির মতো পরে ওর নগ্নতাকে ঢেকে সে সিলিম টানতে থাকেতার চোখজোড়া রক্তজবার মতো রাঙাছোট ছোট চোখদুটোতে সবসময়েই একটা উদ্ভ্রান্ত দৃষ্টিথুতনিতে কয়েকটি লকলকে আধা কাঁচা আধা পাকা দাড়িওর বৌ সবুজ একটা মেখেলা পরে দিনভর এটা ওটা কাজ সারতে থাকেসকালে ভাঙুয়া আর ছেলের জন্যে ভাত চারটা বসিয়ে সে বেরিয়ে পড়েওর কাজ আবহাওয়া আর সময় অনুসারে বদলাতে থাকেকখনো বা সুপারি বেপারীর কাছে গিয়ে সুপারির খোসা ছাড়ায়, মিলে চাল বাছে, রাস্তাতে বুরুস মারে, কখনো বা সুবিধে পেলে মিস্ত্রির সঙ্গেও কাজ করেকাজের থেকে এসে রিজার্ভে লাকড়ি খোঁজে বেড়ায়, ঢেঁকিয়া তোলে, নদীতে মাছ মারেরাতে এসে ছেলের বকাঝকা শুনে, বরের শাপ-শাপান্ত শুনে বা প্রায়শ:ই ধুমধাম কিল খেয়ে ভাত রাঁধেআঠারো -উনিশ বছরের ছেলেটি কখনো বা আধ কেজির মতো শুয়োরের মাংস নিয়ে আসেমাংসে তেল মশলা কম হলে মায়ের গায়ে থাল ছুঁড়ে ফেলে ঘরের থেকে বেরিয়ে পড়েছেলেটির হাত নড়ে বলে এই বস্তির সবাই জানেহাঁস-মুরগির থেকে আরম্ভ করে জলের কল অব্দি সে অনায়াসে সাফ করে দেয়কেউ ধরতেই পারে নাহাতে নাতে কেউ ধরতে পারেনি বটে, কিন্তু কিছু একটা হারালে সবাই জানে হরি ভাঙুয়ার ছেলেই সে কাজটা করেছে
   
          আজ জোনের মায়ের গালি বর্ষণ হচ্ছে ঐ নদীর বাঁকের কাছের বট গাছের ঝুরিতে হেলান দেয়া চালাটার দিকেইজোনের মায়ের গাভিন ছাগলটি বাঁধের উপর থেকেই হারিয়ে গেছেমুড়ার সঙ্গে মালতীকে দেখে জোনের মায়ের মুখ বন্ধ হলো
       “ কী হলো জোনের মা?” জোনের মায়ের রাগ দেখে সে হাসল
       “ কী আর হবে, ভাঙুয়ার ছেলে ছাগলটি নিয়ে গিয়ে বেচে দিলমালতী অল্প দূরের নদীর পারের বাড়িটার দিকে তাকালোউঠোনে একটা আধ ন্যাংটো ছেলে গামছা পরে হাতে দা নিয়ে মাটিতে অনবরত কুপিয়ে যাচ্ছেসে যেন মাটিতে নয়, জোনের মায়ের গাভীন ছাগলটাকেই কোপাচ্ছেকেন যেন ছেলেটির এই কুপানো দেখে ওর পুরো শরীর শিরশিরিয়ে উঠলজোনের মায়ের হাত দুটো গিয়ে ধরল সে, “ এই সব ছেলেদের সঙ্গে তুই লাগালাগি করবি নাজোনের মায়ের স্বর দ্বিগুণ বেড়ে গেল , “ কেন, লাগালাগি করব না কেন? কী করবে আমাকে? দায়ের কোপ বসাবে? দেখি, আসুক দেখি ক'টা ঘা মারে!ওর গলা শুকিয়ে গেছেদা'টা নিয়ে যদি সে এখনই এদিকে তেড়ে আসে? কী হবে? মালতীর ভয়ে ঠাণ্ডা হবার জোগাড় হলোকোনও রকমে মাথা তুলে বটগাছটার দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল দা'টা হাতে নিয়েই একটা অদ্ভুত গর্জন করে ছেলেটি কোথাও চলে গেল
    “ ওর হম্বিতম্বি দেখিস নি? কেন ওদের সঙ্গে গায়ে পড়ে মরতে যাস?” সে ওই এক কথাতেই লেগে রইল
    “ আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেছে মণির মাছাগলটাকে রত্নার ময়ের থেকে আধি নিয়েছিলামভেবেছিলাম হাতে দুটো পয়সা আসবেজোনের বাবার শ্বাস কষ্টটা বেড়ে গেছে, টাউনের একজন ডাক্তারকে দেখাবজোনের মা বসে পড়েছেমালতীও জোনের মায়ের মুখে দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বসে পড়লরত্নার মা হাতে এক বোঝা শলা আর ছুরি একটা নিয়ে ওদের দুজনের কাছে এসে বসলমাটিতে শলার বোঝা রেখে ছুরিতে একটা একটা করে শলা নিয়ে চাঁচতে শুরু করলরত্নার মায়ের হাত দুখানা অশ্বত্থ পাতার মতো ফেটে ফেটে পচে গেছেমালতী সেই হাতগুলোর দিকেই তাকিয়ে রইলআঙুলের গাঁটগুলো বড় হয়ে যাওয়াতে হাত দুটো বাঁকা বাঁকা দেখাচ্ছিলঐ বাঁকা আঙুলেই এতো মিহি করে শলা চেঁছে বের করছে মেয়ে মানুষটিসে নিজের হাতের মুড়াটার দিকে তাকালোকেমন যেন কর্কশ দেখাচ্ছেসে বলেই ফেলল, “ আপনার হাতের শলাগুলো এতো মিহি হচ্ছে, আমারগুলো দেখুনতোরত্নার মা মালতী মুড়াটা হাতে নিয়ে তৎক্ষণাৎ ঠিক ঠাক করে ফেললজোনের মা নুন দেয়া লাল চা আর কিছু মুড়ি উঠোনের মধ্যেই নিয়ে এলো
     “ খা, রত্নার মারত্নার মা বেশ আমোদে চায়ের কাপে চুমুক দিলঅনেকক্ষণ পর ওকে বলতে শোনা গেল, “ অনেক দিন পর চা খেলামস্বরটা বড় ছোটএমন মনে হচ্ছিল যেন সে ঐ কথাগুলো বলতে যেতেই কেউ ওর গলা চেপে চেপে ধরছিলমালতীও বেশ আগ্রহে চায়ের কাপে মুখ দিলকালীবুড়ি না দিলে সেও যে এককাপ চা খেতে পায় নাচাল ডালের সঙ্গে চা, চিনির ব্যয়টা সে কোন সাহসেই বা বাড়িয়ে নেয়? জোনের মাও শাড়ির আঁচলে চায়ের গ্লাসটা ঠোঁটে ছুঁইয়েছেচিনি দেয়া চা এক কাপ বহুদিন খায় নি, চিনি কিনবার পয়সা থাকেই বা কৈ?” হরতকি গাছের ছায়াতে বসে তিনজনেই অল্প অল্প করে চা মুড়ি খেতে রইল কাশির শব্দ শুনে মালতী ঘুরে তাকালোজোনের বাবা এসেছেমানুষটাকে সে আজ এই প্রথমবারের জন্যে কাছের থেকে দেখলমাথাতে চুল প্রায় নেইইগাল দুটো ঢুকে পড়েছেমেরুদণ্ড পিঠের কাছে বাঁকা হয়ে পড়েছেবড় ক্লান্ত লাগছিল মানুষটাকেজোনের মায়ের চায়ের গ্লাসে আরো খানিকটা চা বাকি ছিলসে ঘোপ করে দাঁড়িয়ে পড়লপ্রায় দৌড়ে গিয়ে বরের হাত থেকে বাজারের থলেটা আর কাঁধের পোটলাটি নিয়ে নিলোযে ক'টা পোটলার ভারে মানুষটি বাঁকা হয়ে পড়েছিল, লম্বাটে মহিলাটির হাতে সেই একই ভার ছোট আর হালকা হয়ে পড়লজোনের বাবা ওদের দু'জনকে কিছু একটা বলতে চাইছিল, পারেনিশ্বাস বন্ধ হবার জোগাড় হলোমানুষটি উঠোনে বসে পড়লউঠোনে এক ঘরঘরে শব্দ যেন গড়িয়ে পড়লচায়ের গ্লাস একটা সামনে এগিয়ে দিয়ে জোনের মা বুক চাপড়া কাঁদতে শুরু করল , “ মণির মা, ছাগলটা আমি বেচে...ওর কথা বেরুচ্ছিল নাওর কান্না আর কুঁজো মানুষটির বুকের ঘরঘরে শব্দ যেন কোনও এক জায়গাতে এসে মিশে গেলমাথাটা তুলে জোনের বাবা দাঁত কটমট করে ক্রন্দনরতা জোনের মাকে গাল পাড়তে চাইছিল, পারে নিগালির বদলে বেরিয়ে এলো আরেকটা ঘরঘরে শব্দরত্নার মা যাবার জন্যে উঠে দাঁড়ালোমালতী একটু দাঁড়াল, জোনের মায়ের ফিসফিসিয়ে কান্নার সঙ্গে পিঠটা ওঠা নামা করছিলসেই পিঠে হাত রেখে ওর কিছু একটা বলবার ইচ্ছে হচ্ছিলহঠাৎই জোনের বাবার চোখে চোখ পড়লপারলে যেন এই জোড়া চোখেই মানুষটি কালো মেয়েমানুষটিকে কাঁচা খেয়ে ফেলবেওর চোখের সামনে ভেসে উঠল কালো জামের মতো দুটো চকমকে পুষ্ট স্তনকালো মাংসের মাঝে মাঝে মাটিতে পড়ে থ্যাঁতলানো জামের মতো লালচিটে ঘাওর শরীর শিউরে উঠলমোড়াটা হাতে নিয়ে সে জোরে হাঁটা দিল
      
        কালীবুড়ি একটা পিড়িতে বসে ধানগুলোর থেকে পাখি তাড়াচ্ছিলজট ছাড়া এই মানুষটিকেই কত শান্ত লাগেযখন জট গজায়, কপালে অঙ্গারের মতো ফোটা পরা থাকে, মুখে রক্তের দাগ নিয়ে এই একই মহিলা যেন কেমন ভয়ানক হয়ে পড়েবুড়ি পাই পাই করে পয়সা গোটাচ্ছেআগামী মাসে কালী পূজা করবেমাথাতে যেদিন থেকে জটা গজিয়েছে সেদিন থেকেই বুঝি বুড়ি প্রতি বছর কালী পূজা করে আসছেকত না কষ্ট করে বুড়ি পয়সা জোগাড় করছেআলুর খোসাটাও ফেলে দেয় না বুড়িআলুটা যদি ভাতে সেদ্ধ দেয়, বাকলগুলো মিহি করে কেটে পেঁয়াজ লংকা দিয়ে ভাজেহাতে সুই সুতো থাকেইকাঁথা সেলাই করেও পয়সা জোগাড় করে বুড়িএকটা ডাঁটা খুলে পড়া চশমা পরেই বুড়ি দিনে রাতে মাথা নুইয়ে নুইয়ে মানুষের দেয়া ছেঁড়া কাপড় জুড়ে জুড়ে কাঁথা সেলাই করেআজও বুড়ি ধানের ধারাগুলোর কাছে আরেকটা ধারাতে কাঁথার কাপড়গুলো মেলে ধরেছেসে গিয়ে বুড়ির কাছে দাঁড়ালোকাঁথা সিলাই করবার সময় বুড়ি ঐ ডাঁটা ছাড়ানো চশমাটা পরেবাজারবার বাজারবারে বড় বটগাছের নিচে চশমা নিয়ে বসে এক দোকানীওর থেকে বুড়ি এটা কিনে এনেছিলবুড়ির সেলাই করার ধরণ দেখলেই বোঝা যায় চশমাটা পরা আর না পরা একই কথাএকেকবার বুড়ি এতোটাই ঝুঁকে পড়ে যে কাঁথার সঙ্গে প্রায় লাগো লাগো হয়সূচে সুতা ভরাবার বেলা সূচটা একবার নাকের কাছে নিয়ে আসে আরেকবার দূরে নিয়ে যায়সূচে সুতা ভরানো হয়ে গেলে পরে কাঁথা সহজেই সিলাই করে নিতে পারেআগে বুড়ি বাঁহাতের আঙুলগুলো বুলিয়ে নেয়, তারপরে ডানহাত চালায়সে ভালো করে তাকিয়ে দেখল, এক সারি সেলাই শেষ হলেই পরে বুড়ি পুরো কাপড়েই উপুড় হয়ে পড়েবুড়ির জমানো টাকা আছেসে জানে বুড়ি কালীপূজার জন্যেই পাই পাই করে টাকা জমাচ্ছেপূজা করবার জন্যেই বুঝি চশমার ডাঁটাও পাল্টাবে না? সে জিজ্ঞেসই করে ফেলল, “ এই বাজারবারে একজোড়া চশমা নিয়ে আসব কি?” বুড়ি ওর দিকে চোখ বাঁকা করে তাকালো , “ ধানগুলো গুটিয়ে ফেল, মুড়ির চাল বের করতে হবেসে বুঝতে পেল প্রশ্নটা বুড়ির ভালো লাগে নিসে ধান গুছানো সারতেই মণি এসে পড়লতার সঙ্গেই ভাত দুটো খেয়ে সে রত্নার মায়ের কাছে যাবার জন্যে বেরুলোএখনো সে মুড়ার উপরের দিকে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বোনা শেখে নি
 
        রত্নার মায়ের বাড়ির মুখে দাঁড়িয়ে ওর বড় অস্বস্তি হলোকী বলে বা সে ঢুকে গিয়ে? মানুষটি আছে বা নেই ? রত্নার মায়েরাও এই বস্তিতে প্রথম আসা পরিবারগুলোর একটিভাঙুয়া বুড়োর থেকেই আধ কাঠা মাটি নিয়ে ঘরটা তুলেছিলভাঙুয়াকে টাকা দেয় নি , রত্নার মায়ের একটা আঙটি দিয়েছিলআঙটিটা পেয়ে ভাঙুয়া বেশ খুশি হয়েছিলসে আস্তে করে ডাক দিল, “রত্নার মা!একটি মেয়ে বেরিয়ে এলোমেয়েটি মোটাসোটা, গায়ের রঙ অনেকটাই ফর্সাসে লালের মধ্যে সাদা ফুল আঁকা চুড়িদার কামিজ পরে আছে, ঠোঁটেও লাল রঙসে এসে বললে , মা নেই দোকানে গেছে, এখনই আসবেমেয়েটি বসবার জন্যে একটা ভাঙা মোড়া দিয়ে গেললাল চুড়িদার কামিজ পরা এই মেয়েটিকে ঢিগে দিয়ে রাখা এই ঘরে কেমন বেমানান দেখাচ্ছেরত্নার মা এসে ঢুকল, হাতে পলিথিনের পেকেটে কিসের পোটলা একটা
         “মণির মা, আজ বড় মেয়েটি আসবেসে ভালো খাওয়া দাওয়া করেবাড়ি এসে কষ্ট পাবেতাই এই আলু ক'টা নিয়ে এলামরত্না, আলুগুলো রাখ নিয়ে!রত্নার মা রোদে পুড়ে লাল হয়ে ফিরেছে, ঠোঁট শুকিয়ে গেছেমালতী ভেতরের দিকে তাকালোমেয়েটি কি জল একগ্লাস নিয়ে আসবে, মায়ের হাত থেকে পোটলাটা কি নিয়ে যাবে? না, আসে নিরত্নার মা ভেতরে গিয়ে কাপড় পালটে এলোপাল্টানো কাপড়টা বাড়ন্তবেশ ক'জায়গাতে ফাটাঠিক বুকের কাছে এক টুকরো ভালো রকমই ছিঁড়ে গেছেছেঁড়া কাপড়, পাতলা ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে কোঁচকানো একটা স্তন বেরিয়ে পড়েছেছেঁড়া জায়গাটা লুকোবার চেষ্টা করে রত্নার মা খানিক হেসে ফেলল, “ কী করব মণির মা, বড় মেয়ের দেয়া শাড়িটাই পরছিআমার রোজগারেতো শুধু ওই ভাত-দুমুঠোই জোগাড় হয়ইতিমধ্যে সে মোড়ার উপরটা বুনে ফেললমালতী মন দিয়ে দেখে নিয়েছে, আর ভুল হবে নাবসবার জায়গাটাতে লাল হলুদ প্লাস্টিকের রশিতে বরফির মতো তোলা ডিজাইন দেখে সে তাকিয়ে রইল, “ রত্নার মা, কী সুন্দর হয়েছে!রত্নার মা হাসছেবাড়ির মুখে একটা রিক্সা এসে দাঁড়িয়েছেকাঁধে কালো এয়ারবেগ নিয়ে একটি রোগা শুকনো মেয়ে নেমে এলোমেয়েটির পরনের কাপড় বেশ ভালোইরোগা শরীরে পোশাক দেখে মনে হচ্ছে যেন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছেমেয়েটিকে দেখে গামছা পরা একটি মানুষ বাড়ির পেছন থেকে বেরিয়ে এলোআধো পাকা, আধো কাঁচা দাড়িতে শুকনো মুখ তার মানুষটি বাড়ির মুখ অব্দি এগিয়ে গেলমেয়েটিকে রিক্সার থেকে নামতে দেখে ভেতর থেকে ফর্সা মেয়েটি দৌড়ে এসে হাত থেকে ছোঁ মেরে বেগটা নিয়ে চলে এলোপুরুষ মানুষটি ওর মাথাতে হাত রেখেছে ,
      
 আমার ঔষধ এনেছিস? এরা তো আমি যদি পেটের অসুখে মরে পড়েও থাকি, খবরটাই করে না” “ এনেছি , বলে মেয়েটি হাসিতে ক্লান্তি ঝরিয়ে দিলরত্নার মা হাঁটুতে মাথা গুঁজে দিয়েছেমেয়ে মায়ের কাছে গিয়ে বসে মালতীর দিকে তাকিয়ে হাসলমেয়েটির শুকনো মুখের হাসিটা কেন জানি মালতীর বড় ভালো লেগে গেল
  “
       “ বস্তিতে নতুন এসেছেন?” ওর কথাতে শহুরে সুর
        “ এই অল্প দিন হয়েছেতোমার নাম কী? গুয়াহাটিতে থাকো?
        “ আমার মায়েদের দেয়া নাম অম্বিকা, দিদিরা গুয়াহাটিতে কুকু বলে ডাকে
        “ মা তোমার শরীর ভালো? এতো শুকিয়েছো না
        রত্নার মা মেয়ের হাত পায়ের জল লেগে হওয়া ঘাগুলো হাতে ছুঁয়ে দেখছিল , “ সেখানে বুঝি বাড়ির ভেতরে জল, জল কাদা ঘাটতে হয় নাতবে এতো জলে খেল কী করে?”
       রত্না এসে দিদির কাছে দাঁড়ালো, “ আমার নতুন কাপড় কই? প্রত্যেকবার ঐ পুরোনো কাপড় আনতে হয় বুঝি?”
বাবা এসে ওর থেকে টাকা দশটা চাইল
       রত্নার মা খিটখিটিয়ে উঠল , “মেয়েটি এসেছে মাত্র, সব্বার এখন এটা লাগে , ওটা লাগে
বাবা একবার গেটের বাইরে গিয়ে আবার ফিরে এসে কাঁঠালতলাতে বসে পড়লমানুষটি মাথায় কপালে হাত দিয়ে বসেছে, “ আমার যদি জোয়ান ছেলে একটা থাকত তবে আমি পায়ের উপর পা তুলে মাছে ভাতে খেতামপোড়া কপালপেটের ব্যথার একটা ওষুধও জোটে না
      পচতে শুরু করেছে ঘরের একটা খুঁটিতাতে ধরে দাঁড়িয়ে ফর্সা মেয়েটি বলল , “ রোজগেরে দাদা একটা থাকলে কি আর আমাকে লোকের ফেলে দেয়া কাপড় পরে থাকতে হতো?”
        গুয়াহাটির থেকে এসে ক্লান্ত মেয়েটি নীরবে ঢিগে দিয়ে রাখা ঘরটিতে ঢুকে গেলরত্নার মা মালতীর দিকে তাকালো, “ একটি ছেলে জন্ম দিতে পারিনিঅম্বিকা আর রত্নার মাঝের দুটো নষ্ট হলো, রত্নার পরে আরো দুটোশেষেরটা ছেলে ছিল মণির মা'মাসে খসে গেছিলআমি নিজেই গিয়ে ছেলেটিকে পোঁতে এসেছিলাম মণির মাসেই সন্তান খসানোর রোগেই আমাকে শেষ করল
        “ মা ঘরে চিনি চা পাতা নেই?” ভেতর থেকে বোধহয় অম্বিকা জিজ্ঞেস করছে
        রত্না রশিতে মেলে দেয়া কাপড় গোটাতে এসে মুখ ঝাঁকিয়ে বলল, “ চা পাতা , চিনি! এই বাড়িতে থাকবে?”
মালতী বাসাতে ফেরার জন্যে উঠে দাঁড়ালোহাতে মোড়টা নিয়ে সে শেষবারের জন্যে ডিজাইনটা দেখে নিলোঅম্বিকা ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো, সে এবারে একটা ফ্রক পরেছেবয়সের ছাপ পড়েছে ওর মুখে, তার উপর রোগা পাতলা শরীরে এই ফ্রক পরা মেয়েটিকে অদ্ভুত লাগছিল দেখতেমেয়েটির শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে র কেমন যেন বোধ হলোসে শুধু বলল, “ আসবে কিন্তু অম্বিকা, আমি কালীবুড়ির বাড়িতে ভাড়া থাকি
       একবার কি জোনের মায়ের ওখানে যাবে? ছাগল হারিয়ে মানুষটি একেবারে ভেঙ্গে পড়েছেনা কি বুলেনের বাসাতে যাবে? বুলেন ফেরে নিসে টাউনের রাস্তাতে পাথর ঢালার কাজে লেগেছেআসতে আসতে সন্ধ্যে হয়ে যায়পাগলির উপদ্রব আজকাল কমেছেসে প্রায়ই কাঠ-লিচুর গাছের নিচে বসে থাকে , নইলে বিছানাতে পড়ে শুয়ে থাকেসে বাসাতে ফেরাই ঠিক করল
     বহুদিন পর ওর সেই ভুলটা আবার হলোসে যাচ্ছিল, নারকেল সুপুরি গাছের মাঝের রাস্তাটি দিয়েগিয়ে গিয়ে সে বাড়ির মুখের দরজাটিতে হাত দেবেলাল গোলাপের গাছ, মাছে ভরা পুকুর, কামরাঙা গাছের চারা, বেড়ার জন্যে বাঁশ চিরতে ব্যস্ত একটি মানুষ উঠে আসবেওর চোখে চোখ রাখবেকিছু কি জিজ্ঞেস করবে মানুষটি? মানুষটি চোখ দিয়ে একবার তাকালেই কত কথা বলে বলে যায়মালতী ভেতরের দিকে এগুবে, মানুষটি কি যাবে ওর পেছন পেছন? ডাক দেবে কি একটি বার?
           “মণির মা, মোড়া নিয়ে বাজারে যাবি বুঝি?” জোনের মা সাদা মিহি দাঁত দুপাটি বের করে হাসছে
          “ রত্নার মায়ের থেকে মোড়ার বুনন শিখে এলাম একটুতুই কই যাচ্ছিলি?”
        “ এই যাবার জন্যে বেরিয়েছি, চিনি নিয়ে আসি, জোনের বাবা চিনি দিয়ে চা এক কাপ খেতে চাইছিলচা এক কাপ পেলে মানুষটি বড় আরাম পায়
        “ চল, আমিও দোকানের থেকে আসিগে' লবণ নেই
       “এখন কি তুই মোড়া নিজে বুনতে পারিস?”
        “ পারিরত্নার মায়ের মতো এত তাড়াতাড়ি পারি না
      “ রত্নার মা বেশ কাজের মানুষকিন্তু হবেটা কি, সুখ নেই মানুষটির
       “ আজ বড় মেয়ে এসেছে
        “ওই সংসারটা চালাচ্ছে
        মিনতির বাড়ির সামনে এসে দুজনে দাঁড়ালো, ঘর দোয়ার বন্ধসে ভালো করে তাকালোবাইরে কোথাও গেলে চারকোনা যে তালাটা রোজ লাগিয়ে যায়, আজ সেটি নেইতার মানে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধসে বাড়ির ভেতরে গিয়ে মিনতিকে ডাক দেবে ভাবলজোনের মা ওর হা ধরে টানল, “ ডাকিস নে
       “কেন?” সে অবাক হলোছেলেটার অসুখের খবর নিত সে, জোনের মা এমন করল কেন? জোরে পা চালাচ্ছে, কেন?
       “ দাঁড়া না, জোনের মা! এতো দৌড়োচ্ছিস কেন?”
পাকা রাস্তাতে উঠে রামুর দোকানের কাছে আসতেই সে দেখল সমস্ত দোকানগুলো ধুপধাপ বন্ধ হয়ে যাচ্ছেরামুও তার দোকান বন্ধ করছে
    
      কী হলো রামুদাদা ?” সে জিজ্ঞেস করলওর শরীর শিরশিরিয়ে উঠলএভাবেই ধুপধাপ দোকান বন্ধ হয়মানুষগুলো এখানে জটলা বাঁধে, ওখানে জটলা বাঁধেতারপরেই সব ওলট পালট হয়ে যায়
  “
       “প্রধানমন্ত্রীকে গুলি করে মেরেছে "
       “নিজের রক্ষীই গুলি করেছে
        “ ভদ্রমহিলা পাখির মতো ছটফট করছিল
           “ বেশ ক'টা গুলি লেগেছে
         বাজারের দোকান একটাতে টানিয়ে রাখা একটা বড় ছবি ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলছোট চুল, হাসি মুখে এক সুন্দরী রমণীকেই বা মারল, কীইবা করেছিল? কেই বা শত্রু ছিল? ছেলেমেয়েরাই বা কী করছে? স্বামী আছে বা নেই! মা বাবা?
জোনের মা বিশেষ কথাবার্তা বলেনিঅমন হাসিমুখে মিশুকে মহিলাটি অমন চুপ করে থাকলে ওর বাজে লাগেওরা ফিরে আবার মিনতির বাড়ির সামনে এসে গেছেদরজা এখনো খুলে নিসে জোনের মায়ের মুখের দিকে তাকালোবারির সামনে দিয়ে ওরা যাচ্ছে, কিন্তু অসুখে ছেলেটার খবর একটা নেয়া হলো না
         “ জোনের মা!মালতী মিনিতির বাড়ির সামনে দাঁড়ালো
         “চল, এখন ওর বাড়িতে ঢুকতে হবে নানীরবে সে জোনের মায়ের সঙ্গে সঙ্গে হাঁটতে থাকলনিজের বাসাতে ঢোকার রাস্তার কাছটাতে এসে চুপটি করে জোনের মায়ের মুখের দিকে তাকালোমানুষটি ছাগলের শোক ভুলতে পারে নি
        “মিনতি আজ ঘরে মরদ তুলেছেকথাটা বলেই জোনের মা নিজের পথ ধরল
সে এসে ঘরের তালা খুললখেলাধুলা সেরে নদীতে স্নান করে এসেছে মণিওকে সামান্য খাবার কিছু দিয়ে ও দরজার সামনে বসে রইলমুড়ি ভাজবার ছিল, মোড়া একটাও বুনতে হবেকালকে বাজারে যাবেওর কিছুই করবার ইচ্ছে হলো নাকানে গুমগুম করছে একটি হাবাগোবা মানুষের অস্পষ্ট বিড়বিড়ানি মাথা নেই, চোখ নেইমাথা নেই, চোখ নেইঅমন একদল মানুষ একটি সুন্দরী মেয়ে মানুষকে গুলি করে মারছে, পাখির মতো ছটফট করছে মহিলাটিলোকগুলো মিনতিকে চেপে ধরেছেবন্ধ ঘরে মিনতি চিৎকার দিয়ে যাচ্ছেলোকটি বিড়বিড়িয়ে যাচ্ছে --মাথা নেই চোখ নেই
ওর চোখজোড়া ভার হয়ে এসেছে
       “মা, কী করছ?” মণি ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো
        “না, কিছু নাযা তো দিদাকে ডাক দে, মুড়ি ভাজতে হবে
         মণি চলে যেতেই ওর চোখ দিয়ে ঝরঝর করে জল গড়িয়ে নামল


টীকাঃ
) সুহাগমণিঃ মূল অসমিয়া নাম সুৱাগমণিতাই রাখলাম কেবল বাংলা উচ্চারণ অনুযায়ী লিখে দিলামনামটির বাংলা হতে অসুবিধে নেইসুহাগমণি একধরণের শাইল ধান

0 মন্তব্য(সমূহ):

ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

বাছাই পোষ্ট

অধ্যায় এক (১)

ফেলানি ( 'ব্যতিক্রম' মাসিক কাগজে ধারাবাহিক বেরুতে শুরু করল 'ফেলানি' জুন , ২০১৪ থেকে। )        ফে রিখানা ব্...

ই-মেইলে গ্রাহক হোন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

আমাকে চিঠি লিখুন

ভারতীয় ব্লগার দল

যারা পড়তে আসেন

ফেসবুকের সঙ্গীরা এ পথে জুড়তে পারেন

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন?

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন? ০২

যারা নিয়মিত ফেলানি পড়েন

যে ক'জন এখানে এলেন

কে কী বললেন

আমাদের অলঙ্করণ সহযোগী

বাংলা ব্লগের প্রবাহে জুড়ুন !

কালের পদধ্বনি

ক' ফোটা স্বচ্ছ জলের সন্ধানে

Powered by Blogger.

ফেলানি

I heart FeedBurner

Blog Archive

কেমন লাগল বলুন !

এখানে আমার অনুবাদ দেখুন

এই ব্লগ সম্পর্কে

ইংরাজি সাহিত্যের ডক্টরেট অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নামপাঠক-সমালোচক মহলে বিপুলভাবে সমাদৃত এই লেখক ইতিমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেনসেগুলো মধ্যে আছে ১৯৯৩তে পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সেতুনামের লিটিল ম্যাগাজিনের থেকে শৈলেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত সাহিত্য সেতু পুরস্কার, ১৯৯৫তে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮তে দিল্লির কথানামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দেয়া কথা পুরস্কার১৯৯৫তে অসম সাহিত্য সভার দেয়া বাসন্তী বরদলৈ স্মৃতি পুরস্কারদিতে চেয়েছিলকিন্তু তিনি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে সাহিত্য কর্মে তিনি লেখকের লিঙ্গভেদ মানেন না

১৯৯৪তে প্রকাশিত তাঁর অয়নান্তনামের উপন্যাসটি অসমিয়া উপন্যাসের প্রথম শ্রেণির গুটি কয় উপন্যাসের মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়ে থাকেঅয়নান্তের নবছর পর তিনি লেখেন এই বিখ্যাত উপন্যাস ফেলানি২০০৩এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গেল কয়েক দশকের জাতি-দাঙ্গাতে অভিশপ্ত ও অশান্ত অসমজাতি-দাঙ্গা ও উগ্রপন্থার শিকার দরিদ্র মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের এক মর্মস্পর্শী উপন্যাস এটিফেলানির চরিত্রগুলোর অবস্থান সমাজের প্রান্তে , কেন্দ্রে নয়সমাজ যে মানুষগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করছে তাদের প্রতীকআবার সমাজের কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে প্রান্তীয়তাতেই নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করবার যে প্রক্রিয়া তার ব্যঞ্জনা-ঋদ্ধ এক সত্তার নামও ফেলানিমৃত্যু যেমন সহজ তেমনি জীবনের প্রতি সুতীব্র ভালোবাসাও মৃত্যুর বিপরীতে উপস্থাপিতজাতি-ধর্ম নয়, সুবিশাল মানবতার পরিচয়েই ফেলানির পরিচয়ফেলানির পৃথিবীতে অজস্র চরিত্র আর বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে নিষ্করুণ সমাজ সত্য এবং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাঠক যাত্রা করবেন সামাজিক উপলব্ধির অন্য এক সীমান্তের দিকে

টংলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অরূপা দামলনামের সাহিত্য-সংস্কৃতি মূলক অব্যবসায়িক সাময়িকীর সম্পাদনা সহযোগীতাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলঃ মৃগনাভি ( ১৯৮৭), মেপল হাবির রং ( ১৯৮৯), মরুযাত্রা আরু অন্যান্য ( ১৯৯২), অয়নান্ত ( ১৯৯৪), মরুভূমিত মেনকা আরু অন্যান্য (১৯৯৫), কাঁইটত কেতেকী (১৯৯৯), পাছ চোতালর কথকতা (২০০০) , অরুণিমার স্বদেশ (২০০০), মিলিনিয়ামর সপোন (২০০২)


অনেকদিন ধরে আমার স্বপ্ন ছিল এই শিরদাড়া খাড়া করা উপন্যাসখানি বাংলাতে অনুবাদ করবার। এবারে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো


আমাকে নিয়ে

My photo
Tinsukia, Assam, India