ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

‘যে গাছে ফল ধরে না তাকে বলে নিষ্ফলা কিন্তু কেউ কি পরীক্ষা করে দেখেছেন মাটি? যে ডাল সহজে ভেঙ্গে যায় তাকে বলে ঠুনকো। কিন্তু তার উপর কি জমেনি অজস্র বরফ?’ ---- বার্টল ব্রেখট

স্বাগত

ফেলানি উপন্যাস পড়তে আপনাকে স্বাগত। এক্সপ্লোরার নয়, অনুগ্রহ করে মজিলা ফায়ার ফক্স খুলে বসুন

অন্যদের পড়তে বলুন


ফেলানি
মস্ত বস্তিতে হুলস্থুলু লেগে গেছে। দুপুরে বারটা নাগাদ ভোট চাইতে বেশ ক'জন আন্দোলনের নেতা বস্তিতে আসবে। ভোট ইতিমধ্যে গোটা বস্তিকে উথাল পাথাল ফেলেছে । ভাঙুয়ার ছেলে রতন এই সবে আগ ভাগ নিয়েছে । ওর সঙ্গের ছেলেরা রোজই বস্তি আসছে । কখনো বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে, কখনো বা মিটিং করে আন্দোলন পার্টিকে ভোট দিতে বলছে। বস্তিতে ঢোকার পথে একটা গেট তৈরি করেছে । পুরোটাতে মাথাতে অল্প চুল কম, দাড়ি থাকা আর চশমা পরা লোক দুজনের ছবিতে ভরিয়ে ফেলেছে। আজ ভাঙুয়ার ছেলে আর ওর সঙ্গীরা কাউকে কাজে কর্মে , বাজারে যেতে দেয় নি। আজ ছিল বাজারবার। সবাই বাজারে যাবার জন্যে নিজের নিজের মাল আগের দিনই ঠিকঠাক করে রেখেছিল। বস্তির থেকে মুল রাস্তাতে উঠার জায়গা থেকে ছেলেগুলো সবাইকে ফেরত পাঠাল। সেই জায়গাটা লোকে ভরে পড়েছে । গেট তৈরি হয়েছে, কলাচারা পোঁতা হয়েছে। জগু ওখানে লাল চা আর নারকেল সন্দেশের দোকান বসিয়ে দিয়েছে । রমাকান্ত সবুজ রঙ দিয়ে সেদ্ধ করে রাখা মটর , তাতে কুচি কুচি করে পেঁয়াজ কেটে ছড়িয়ে বাক্সটা গলাতে ঝুলিয়ে জগুর তোলা চুল্লির কাছে দাঁড়ালো গিয়ে। ভাঙুয়ার বৌ আর ময়নার মা কলাপাতা বিছিয়ে সেদ্ধ পিঠা সার করে সাজিয়ে ফেলেছে।
           মণি মাঝে মাঝে এসেই মাকে শেষ খবর জানিয়ে যাচ্ছে। ভাত খাবার নামে মুখে দুটো গুঁজে সে আবার দৌড় দিল। দেখতে দেখতে ছেলেটা বড় হয়ে গেছে । মুঠোভর নুন ভাত খেয়ে সে বড় হয়ে যাচ্ছে । ওকে যেমন করে হোক যদি মেট্রিকটা পাশ করাতে পারে পারবে কি সে কলেজে পড়তে? পড়াবে, সে যতটা ইচ্ছে করে ততটা পড়াবে। মোড়া বানাবে, মুড়ি ভাজবে। সে ঠিক করে ফেলল, মিনতির থেকে ঠোঙা বানাতে শিখে নেবে। অবসর সময়ে ঠোঙা বানাবে । কী আর এমন বড় কাজ? মিনতি , রত্নার মা, জোনের মা, এমন কি জগুর বৌও বানায়। মণিও হাত লাগিয়ে দিতে পারবে । মোড়াগুলোতো আজকাল ওই বানায় অনেকটা । ওর থেকে ভালো করে শলা চাঁচে । কত ভালো করে গাঁঠ দিতে শিখেছে । ওকে কলেজে পড়াবে । একবার ওর মণির মুখখানা দেখবার বড় ইচ্ছে হলো । কোথায় বা কী করে বেড়াচ্ছে । বেলা পড়তে শুরু করেছে । দুপুরে আসবার কথা নেতাদের , আসেনি বোধহয়। এলে মণি খবর দেবেই। ঐ তো মণি দৌড়ে আসছে । নেতাকে দেখতে যাবার একেবারেই ইচ্ছে নেই মালতীর। কলাপাতায় ভরা ডোবার ভেতর থেকে একেবারে কাছ থেকে সে অনেক নেতাদের দেখেছে । ওর বারবার মনে পড়ছে নিজের চোখে দেখা জালে বন্দি জঙ্গলের রাজার মতো ছটফট করছে সেই লম্বাটে শক্তসমর্থ ছেলেটি ফিনফিনিয়ে রক্ত বেরিয়েছিল। জনা দুয়েক লোক প্রচণ্ড আক্রোশে পাট খেতে মধ্যে বেঁচে যাওয়া ছেলেটাকে লাঠি বর্শাতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলেছিল। তারপর ওদের গ্রামখানা উজাড় করে ফেলেছিল। মালতীর চোখের সামনে ভেসে উঠল একটা গাছে ঝুলন্ত পচতে শুরু করা বাচ্চা, ওর হাত পা, মাথা ছিল না। আজ যে নেতারা আসছে তাদের মধ্যে কেউ একজনও যদি জানতে পায় সেই গ্রামের এক মহিলা এই গ্রামে বেঁচে আছে, যদি এই নেতাদের মধ্যে কেউ একজনও জানে এই বস্তিতে এমন এক মহিলা আছে যার ফাটা কাঁথার মধ্যে এক কামরাঙাহার রয়েছে। সেতো জানে সেই মৌজাদারের বাড়িতে এসে আন্দোলনের নেতারা রাত কাটিয়েছিল। ওর গলা শুকিয়ে এলো । হাতের মোরাতে ও মন বসাতে পারেনি আধা তৈরি মোড়াটা রেখে সে ভাত রাঁধার জোগাড় যন্ত্র শুরু করল। সন্ধ্যা প্রায় হয়েই এলো । কালীবুড়ি এখন বেরোবে না, পুজোতে বসেছে। মাথাতে জটা দেখা দিলে বুড়ি কারো সঙ্গে কথা বলে না । সেই বেরিয়ে গেল। সেই ছেলেদের দুটো এসেছে,
             “টাকা চাই, প্রদীপ কিনতে হবে।
             সে ভেতরে গিয়ে টাকা দুটো এনে দিল।
             “ দু টাকা দিতে এসেছে!একটা ছেলে দাঁত খিচিয়ে উঠল।
            “হবে চল, পরে দেখা যাবে।
            ওর বুকের কাঁপন বেড়ে গেল।
            জোকার, শঙ্খ, ঘণ্টার ধ্বনিতে বস্তিটা ভরে গেল। বস্তির সবাই সেখানে । ঐ কে দৌড়ে দৌড়ে আসছে? মেয়ে মানুষটি ওর দিকেই আসছে। খানিক কাছে এলে দেখল মিনতি । ও কথাই বলতে পারছে না , হাঁপাচ্ছে।
            “আহ! জল খা, হলো কী তোর?”
       
         মিনতি এক ঢোকে গ্লাসের জলে খেয়ে ফেলল। ভেতরের বাতির আলোয় দেখল মিনতি মেখলা চাদর পরেছে। গোলাপি রঙের উপর লাল কালো ফুল রয়েছে । একটা খোঁপা বেঁধেছে । কানে দুল। কপালে একটা বড়সড় ফোঁটা। কী সুন্দর যে লাগছে ওকে! গাল দুখানা লাল হয়ে গেছে। কন্ট্রোলের শাড়ি পরে বেড়ানো এই মেয়েটাইতো ?
 
         “কী হলো তোর? বিয়ের কনে সেজেছিস দেখছি।
          মিনতি ওকে জড়িয়ে ধরল। ওর গায়ের উপর মেয়েটি কোমল আর নড়বড়ে হয়ে পড়েছে ।
           “ ও এসেছে মণির মা, ও এসেছে। ভোট চাইতে আসা লোকগুলোর সঙ্গে অও এসেছে
আনন্দে উথলে উঠা মিনতিকে দেখে ওর রাগ চড়ে গেল, “ তোকে যে ঠকে গেল সেই বজ্জাতটা এসেছে, আর তুই তার জন্যে কনে সাজা দিয়েছিস!
        “ তেমন করে বলবিনে মণির মা, তেমন করে বলবিনে। ও আমাকে ঠকায় নি । তুইই বল ছাত্র অবস্থাতে একটা ছেলে বা একটা মেয়ে বাড়ির অমতে করবেই বা টা কী?”
         “শরীরে বাচ্চা দিয়ে সে তোকে মরবার জন্যে ছেড়ে দেয় নি?”
          “ না, দেয়নি মণির মা। আমি তার সম্মান রাখবার জন্যে নিজেই পালিয়ে এসেছি কী সম্মান তার কাগজে, টিভিতে তার ফটো।
         “একবারও খবর করেছে তোর ও? একবার দেখেছে ও তার ছেলেকে? ওর ছেলেকে বাঁচাবার জন্যে তুই ঘরে পুরুষমানুষ তুলিসনি? ঘোপ করে কথাগুলো বলে ও থমকে গেল।
         “তুলেছি পুরুষ, একশবার তুলেছি। তার ছেলে তার ছেলে করবি না বলে দিলাম। সে আমারও ছেলে
মিনতি ওর হাতে ধরল,” যাবি মণির মা, একবার তাকে দেখে আসব, মাত্র একবার।
        “তোর সঙ্গে ওর দেখা হয় নি? আমি আরো ভেবেছিলাম...এক অদ্ভুত আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে পড়া মেয়ে মানুষটার উপর রাগ চড়লেও সে রাগ করতে পারল না।
         “কী যে বলিস মণির মা।লজ্জায় মিনতি লাল হয়ে পড়েছে ।
কী করেই বা মানা করে এই মেয়েটিকে? সে তালা দিয়ে কালীবুড়ির দিকে উঁকি দিয়ে তাকালো। মাথাতে এক বিশাল জটা নিয়ে বুড়ি মায়ের সামনে বসে আছে । সে আর মিনতি নিঃশব্দে প্রণাম করে সেখান থেকে চলে গেল।
       “মিনতি , সত্যি করে বল। সে তোর এখানে এসেছিল কি না ।
        “আসেনি মণির মা। আমি কোথায় আছি ও জানেই না ।
        “মরেছে বলে ভেবেছিল।
       “ আমি মরলেও সে আমাকে ভুলবে না।
       “বজ্জাতটা তোকে...
       ওর কথা শেষ হতে দেয় নি মিনতি, “ সে আমাকে কী বলে ডাকত জানিস, মণির মা?”
      এতো ছোট্ট করে কথাটা বলল যে শব্দগুলো ওর নিজের ভেতরে উঠে আবার নিজের ভেতরেই ডুবে গেল।
      বস্তির মুখে বিশাল জটলা। চারদিকে বাতি জ্বলছে, ধূনার গন্ধ, ধূপ আর ফুলের গন্ধ। কয়েকজন নেতা ভাঙুয়ার ছেলের দলে বাঁধা মঞ্চে উঠে বসে আছে । একজন কথা বলছে । বিদেশি তাড়িয়ে সোনার আসাম তৈরির কথা বলছে, বলছে রামরাজ্য নিয়ে আসবার কথা।
         “ মণির মা , দেখ দেখ!
        “কোনটা?”
        “দেখিস নি?”
        “ওর মাথাতেই কাজ করছে না, আমি কী করে চিনে পাব?”
  
 এক ফর্সা, লম্বা ছেলে কথা বলবার জন্যে উঠে দাঁড়িয়েছে। সে যেন দাঁড়ালো না, মাইক হাতে নিয়ে কথা বলে নি। মানুষের ভিড় ঠেলে এসে মিনতির কাছে পৌঁছুলো । সে মিনতির আনন্দে লাল মুখখানা তুলে ধরে যেন বলছে, “তুই মরলেও আমি তোর কথা ভুলব না।মিনতি কোনোদিকে তাকাতে পারেনি । লজ্জা আর আনন্দে সে মাথা নুইয়ে বসে আছে।
  
       “এটা বুঝি?” মালতী চাপা গলাতে জিজ্ঞেস করল। উত্তরে মিনতি ওর হাতখানা খামচে ধরল। মিনতির হাত ঘামে ভিজে গেছে । ওর শরীরে টুপ করে কিছু পড়ল যেন। কালীবুড়ির বাগান থেকে বেলি ফুল পেড়ে মিনতি খোঁপায় গুঁজেছিল, সেই ফুল। ফুলটি দেখে , না মিনতির আনন্দে, না ছেলেটার একগুচ্ছ বকবকানি শুনে মালতী বড্ড বিরক্ত হয়ে পড়ল। সে মিনতির কাছ থেকে সরে এলো । বাড়ি এসে দেখল কালীবুড়ির জটা নেই। সেই একই রকম শুকনো চুল, থান কাপড়ের শাড়ি। এই কালীবুড়িকে সব বলা যায়, সব জিজ্ঞেস করা যায়।
        “আজ মুড়ি ভাজতে হবে না?” সে ভাবল আজকের বাজারবারতো গেলই। মাঝের তিনদিন আর তাকে মুড়ি ভাজতে হবে না । বুড়ির ভাগেরটা ভেজে দেবে । পারলে কাল বুড়ির বাঁধা গ্রাহকদের দিয়েও আসবে । বুড়ির এইটুকুন কাজ করে দিয়ে ওর ভালোই লাগে । বুড়ি একটা কাঁথা পেড়ে ফেলেছে । সে বুড়ির হাতের থেকে সূচটা নিয়ে সুতো ভরিয়ে দিল। বুড়ির কান ভার হয়েছে । ভালো শুনতে পায় না । দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়েছে মানুষটি । বুড়ির যা উপার্জন হয় তাতে একজন মানুষের দিব্বি চলে যায়। অথচ বুড়ি একবেলা খেয়ে আর বেলা না খেয়ে কেমন করে যে টাকা জমাচ্ছে । চশমার নালটাও পাল্টায় নি । কী করবে পয়সা জমিয়ে?
     কানের কাছে চেঁচানোর মতো করে সে বুড়িকে বলল, “ মুড়ি ভাজতে হবে না?” বুড়ি কোনও উত্তর দিল না। মাত্র নাল ছাড়ানো চশমার মধ্যি দিয়ে ওর দিকে তাকালো একবার। তারপর আবার কাঁথাতে হাত দিল। একই রকম আগে বাঁ হাতখানা পরে ডান হাতখানা... এক সারি সেলাই শেষ হলে কাঁথাটার উপর উপুড় হয়ে পড়ে। এভাবেই বুড়ি সপ্তাহে একখানা কাঁথা সেলাই শেষ করে । কিসের জন্যে এতো কষ্ট করে বুড়ি? হঠাৎ বুড়ি ওর দিকে তাকিয়ে বলল,” তুই আর আমার ঘরভাড়া দিতে হবে না।বুড়ির চুলোতে আগুন ধরিয়ে সে কড়াইতে মুড়ি ফোটাতে শুরু করেছিল। এক হাতা লবণ জল ঢেলে দিয়ে সে অবাক হয়ে বুড়ির দিকে তাকালো । বুড়ি বলেটা কী? ওকে বাড়ি থেকে তুলে দেবে না তো?
      “ আমাকে কি কোনও কারণে খারাপ পেলি?” জোনের মায়েদের মতো সেও যে খন বুড়িকে তুই বলতে শুরু করেছে বলতেই পারে না।
      “তোকে খারাপ পেতে যাব কেন?”
     “ তবে আমার ঘর...ওর গলা যেন কেউ চেপে ধরেছে।
    “তোকে কে যেতে বলছে মণির মা? তুই আছিস বলেই না...বুড়ি কাঁথাতে মন দিল , সেও মুড়িতে।
    “মণি কই?” বুড়ি কাঁথা গোটাচ্ছে।
   “ ভোটের মিটিঙে।

 সে বুড়ির কাছ চেপে এলো। কেন জানি বুড়ির থেকে সে কোনও কথা লুকোতে পারে না ।যেকোনো কথা বুড়িকে বলতে না পারা অব্দি সে শান্তি পায় না ।
      “আজ ভোটের মিটিঙে মিনতির ছেলের বাপ এসেছে।
      “কী রকম বাপ সে?” বুড়ি চটে গেল। মিনতি ওকে ঘরে তুলেছে  ?”
      মালতীর স্বর চাপা হয়ে এলো, “ সে বড় লিডার।
     “আন্দোলন পার্টির লিডার?” বুড়ির স্বরও খাটো হয়ে এলো। আবারও মুড়ি আর কাঁথা । অনেকক্ষণ ওরা দুজন চুপ করে বসে রইল।
     “মণিকে কেন এতো দেরি বাইরে থাকতে দিচ্ছিস?” বুড়ির কথাটা শেষ না হতেই মণি এসে পৌঁছুলো।
     “ যা পড়গে' খিদে পেলে মুড়ি খেয়ে নিবি।
    “ খাব না মুড়ি আজ, বুট দিয়েছে, কলা দিয়েছে, নারকেল দিয়েছে।সে পকেটের থেকে পোটলা একটা বের করল। লাফিয়ে লাফিয়ে সে বুড়ির ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
  
      বিছানাতে পড়ে সে মিনতি আর সেই বড় লিডারটার কথাই ভাবতে থাকল। আজ অনেক দিন পর সে বিছানাতে পড়ে কাঠের মতো জেগে রইল না । চোখের পাতায় পাতায় লাগে, সে চিলমিল তন্দ্রাতে আচ্ছন্ন হয়, আবার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
 
    চোখের পাতা লাগল কি লাগল না চোখের সামনে নাচতে থাকে জালের ভেতরে ফর্সা, লম্বা, কপালের সামনে পড়ে থাকা এক চিলতে চুল। ছেলেটাকে বল্লম, বর্শা হাতে একদল মানুষ ঘিরে ধরেছে, মিনতি গোলাপি কাপড় একটা পরে সেদিকে দৌড় দিয়েছে, চুল থেকে ঝিরঝির করে সাদা বেলি ফুল একগুচ্ছ ঝরে পড়েছে । ফুলগুলো ওকে পুঁতে ফেলেছে । মিনতিকে ডাকতে চেয়েও সে পারেনি গলাটিকে চেপে ধরেছে একগুচ্ছ সাদা ফুল । সাদা ফুলে সে হোঁচট খেয়ে পড়েছে । তাকে ধরে ফেলেছে সেগুন পাতার মতো ছড়ানো এক হাত। হাতখানা ওর শরীরে ঘুরে বেড়াচ্ছে । মেয়ে একটি এক অদ্ভুত সুখ আর আনন্দে উছলে উঠেছে । কোন মেয়ে ? সে নিজে না মিনতি? সে ঘোপ করে জেগে উঠে গেল। তার শরীরের অদ্ভুত সুখের কাঁপন এখনো আছে চোখ মেলে সে টের পেল সেই কাঁপনটি ওকে বারে বারে নাড়িয়ে যাচ্ছে । ওর থেকে ওর শরীর সরে গিয়ে যেন বারে বারে কাঁপছে । ভয় পেয়ে গেল, নিজের শরীরটাকে সেই ভয় পেয়ে গেল।
       “মণি, মণি , মণি!উঠবে না, মণি উঠবে না। সে মণির বাহুতে ধরে ঝাঁকার দিল। এবারে সে উঠল। কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে উঠা ওর চোখজোড়া লাল।
        “ জল একগ্লাস দে তো।মণি জল একগ্লাস কলসটির থেকে ঢেলে মাকে দিল। মা তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
        “শুয়ে থাক বাবা।সে তৎক্ষণাৎ ঘুমে ঢলে পড়ল।
       “ বাবা, তুই কখনো বাবাকে স্বপনে দেখিস?” নেই , কোনও উত্তর নেই। সে বেঘোরে ঘুমোচ্ছে ।
       “আমি দেখি, বুঝলি? কখনো বা দেখি।কথাগুলো সে নিজেকে বলবার মতো করে বলল।
      “এইমাত্র দেখেছিলাম, বুঝলি মণি? আমি কি করতে চাইছিলাম...তারও কথাগুলো অস্পষ্ট হয়ে এলো । ক্লান্ত দেহটাকে চেপে ধরল ঘুম, গভীর ঘুম।


0 মন্তব্য(সমূহ):

ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

বাছাই পোষ্ট

অধ্যায় এক (১)

ফেলানি ( 'ব্যতিক্রম' মাসিক কাগজে ধারাবাহিক বেরুতে শুরু করল 'ফেলানি' জুন , ২০১৪ থেকে। )        ফে রিখানা ব্...

ই-মেইলে গ্রাহক হোন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

আমাকে চিঠি লিখুন

ভারতীয় ব্লগার দল

যারা পড়তে আসেন

ফেসবুকের সঙ্গীরা এ পথে জুড়তে পারেন

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন?

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন? ০২

যারা নিয়মিত ফেলানি পড়েন

যে ক'জন এখানে এলেন

কে কী বললেন

আমাদের অলঙ্করণ সহযোগী

বাংলা ব্লগের প্রবাহে জুড়ুন !

কালের পদধ্বনি

ক' ফোটা স্বচ্ছ জলের সন্ধানে

Powered by Blogger.

ফেলানি

I heart FeedBurner

Blog Archive

কেমন লাগল বলুন !

এখানে আমার অনুবাদ দেখুন

এই ব্লগ সম্পর্কে

ইংরাজি সাহিত্যের ডক্টরেট অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নামপাঠক-সমালোচক মহলে বিপুলভাবে সমাদৃত এই লেখক ইতিমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেনসেগুলো মধ্যে আছে ১৯৯৩তে পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সেতুনামের লিটিল ম্যাগাজিনের থেকে শৈলেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত সাহিত্য সেতু পুরস্কার, ১৯৯৫তে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮তে দিল্লির কথানামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দেয়া কথা পুরস্কার১৯৯৫তে অসম সাহিত্য সভার দেয়া বাসন্তী বরদলৈ স্মৃতি পুরস্কারদিতে চেয়েছিলকিন্তু তিনি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে সাহিত্য কর্মে তিনি লেখকের লিঙ্গভেদ মানেন না

১৯৯৪তে প্রকাশিত তাঁর অয়নান্তনামের উপন্যাসটি অসমিয়া উপন্যাসের প্রথম শ্রেণির গুটি কয় উপন্যাসের মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়ে থাকেঅয়নান্তের নবছর পর তিনি লেখেন এই বিখ্যাত উপন্যাস ফেলানি২০০৩এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গেল কয়েক দশকের জাতি-দাঙ্গাতে অভিশপ্ত ও অশান্ত অসমজাতি-দাঙ্গা ও উগ্রপন্থার শিকার দরিদ্র মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের এক মর্মস্পর্শী উপন্যাস এটিফেলানির চরিত্রগুলোর অবস্থান সমাজের প্রান্তে , কেন্দ্রে নয়সমাজ যে মানুষগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করছে তাদের প্রতীকআবার সমাজের কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে প্রান্তীয়তাতেই নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করবার যে প্রক্রিয়া তার ব্যঞ্জনা-ঋদ্ধ এক সত্তার নামও ফেলানিমৃত্যু যেমন সহজ তেমনি জীবনের প্রতি সুতীব্র ভালোবাসাও মৃত্যুর বিপরীতে উপস্থাপিতজাতি-ধর্ম নয়, সুবিশাল মানবতার পরিচয়েই ফেলানির পরিচয়ফেলানির পৃথিবীতে অজস্র চরিত্র আর বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে নিষ্করুণ সমাজ সত্য এবং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাঠক যাত্রা করবেন সামাজিক উপলব্ধির অন্য এক সীমান্তের দিকে

টংলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অরূপা দামলনামের সাহিত্য-সংস্কৃতি মূলক অব্যবসায়িক সাময়িকীর সম্পাদনা সহযোগীতাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলঃ মৃগনাভি ( ১৯৮৭), মেপল হাবির রং ( ১৯৮৯), মরুযাত্রা আরু অন্যান্য ( ১৯৯২), অয়নান্ত ( ১৯৯৪), মরুভূমিত মেনকা আরু অন্যান্য (১৯৯৫), কাঁইটত কেতেকী (১৯৯৯), পাছ চোতালর কথকতা (২০০০) , অরুণিমার স্বদেশ (২০০০), মিলিনিয়ামর সপোন (২০০২)


অনেকদিন ধরে আমার স্বপ্ন ছিল এই শিরদাড়া খাড়া করা উপন্যাসখানি বাংলাতে অনুবাদ করবার। এবারে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো


আমাকে নিয়ে

My photo
Tinsukia, Assam, India