ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

‘যে গাছে ফল ধরে না তাকে বলে নিষ্ফলা কিন্তু কেউ কি পরীক্ষা করে দেখেছেন মাটি? যে ডাল সহজে ভেঙ্গে যায় তাকে বলে ঠুনকো। কিন্তু তার উপর কি জমেনি অজস্র বরফ?’ ---- বার্টল ব্রেখট

স্বাগত

ফেলানি উপন্যাস পড়তে আপনাকে স্বাগত। এক্সপ্লোরার নয়, অনুগ্রহ করে মজিলা ফায়ার ফক্স খুলে বসুন

অন্যদের পড়তে বলুন

ফেলানি
দুই একটা বন্ধ পার হয়ে গেছে যদিও কিছুদিন ধরে সব কিছু ঠিকঠাকই চলছে। বাজার বসছে, বেচাকেনা হচ্ছে, স্কুল কলেজ চলছে। শহরখানা ব্রহ্মপুত্র নদীর মতো হয়ে আছে। বাইরে শান্ত , ধীর; ভেতরে তীব্র স্রোত। তবু লোকে শ্বাস নিতে পারছে।
     নদীর তলার থেকে উপরে উঠে আসা ঘূর্ণির মতো হঠাৎই ঘটনাটা ঘটে গেল। শুক্রবারের বড় বাজারটা সেদিন দারুণ জমেছিল। হঠাৎই রেডিমেড কাপড়ের দোকানগুলোর কাপড়ের গাঁটগুলোর ভেতর থেকে একটা কান ফাটানো শব্দ পুরো বাজারটাকে কাঁপিয়ে দিল। পুরো বাজার মুহূর্তের মধ্যে কসাইখানার রূপ নিয়ে ফেলল। রক্ত, মাংসের টুকরো, ছেঁড়া হাত পা, নাড়ি ভুঁড়ির দম, মগজের বেরিয়ে পড়া তরল। হৈ হল্লা, কান্না। পলক না ফেলতে বাজারটি নরকে রূপান্তরিত হয়ে গেলো। বোমাটা ফুটেছিল মণিহারী মাল বেচা-কেনার জায়গাতে। দশটা এগারোটার সময় বেশি ভিড় হয় মাছ-মাংস, শাক-সবজি বিক্রির জায়গাতে। কাপড়, মণিহারী মাল, দা-খুন্তি ইত্যাদি বিক্রির জায়গাতে ভিড় হয় বারোটা বাজবার পরে। মণিহারী জিনিসের দোকানগুলোতে সে সময় এমন যে একটা বেশি ভিড় হয়েছিল, তাও নয়। মাছ-মাংস-শাক-সবজি বাজারেই লোকে বেশি ঠাসাঠাসি করছিল। বোমাটা যদি এদিকটায় ফুটত তবে মানুষের মাংসের টুকরো ধান খেতের মাটির টুকরোর মতো দেখাতো। ওদিকটাতে হবার জন্যে মাংসের স্তূপের থেকে অক্ষত বা ছেঁড়া হাত-পায়ের দু’ই একটা মরা লাশ বা আধমরা কিছু মানুষ বের করে আনা গেল।
     যেখানকার দোকান সেখানে ফেলে বাজারের মানুষগুলো বস্তিতে ফিরে এলো। শূন্য বাজারটিকে মুহূর্তে মিলিটারি মালার মতো ঘিরে ফেলল। বস্তিতে ফেরার পথে পথে হাহাকার আর কান্না। ঠিক যেন এতোদিন ধরে বাসা করে থাকা গাছটিকে কেউ কেটে ফেলে দিল, ডিম বাচ্চা সহ বাসাগুলো এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল আর বাসা ভাঙ্গা পাখিগুলো? চি-চিৎকার করে, পাখা ঝাপটে পাখিরা বাতাস চিরচির করে ফেলল।
     মণি মায়ের খুঁজে হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে স্কুল থেকে দৌড়ে আসছে। তার মায়ের চাদর কোথাও পড়ে গেছে, মুখে শুধু একটাই কথা, “মণি, মণি রে!” জোনের মা পায়ে ব্যথা পেল, বুড়ো আঙুলের নখ উলটে গেল। ফিনফিনিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। ও বলতেই পারে না।
     মিনতি এসেছে চুলের বেণী খুলে। ওর ছেলের কপাল ফুলে গেছে, ব্লাউজের হাত ফেটে শরীর দেখা যাচ্ছে।
 
   মীরার মা আসছে, শুধু খাঁচা একটাতে দু’টো মুরগি বুকে বেঁধে। সে কাঁদতে কাঁদতে আসছে। খেতির সময় এসেছে বলে মুরগিগুলো বেঁধে এনেছে বিক্রি করবার জন্যে। হুলুস্থুলুতে কোথাকার মুরগি কোথায় গেল ঠিক নেই। একটা পয়সা বাজে খরচ হলে যে বুক চাপড়ায় সে এতোগুলো মুরগি হারিয়ে পাগল হয়ে গেছে।
     শিবানীর মায়ের মোড়াগুলোর একটাও বাঁচে নি। সবক’টা চ্যাপটা হলো।
     নবীনের সাইকেলে করে বেঁধে নিয়ে আসা বইয়ের দোকান থেকে আধা বইপত্র পথে পথে পড়ে যাচ্ছে।
     ফুলের গরম মশলার একটাও প্যাকেট নেই।
     লাতুর মা এসেছিল সাদা একখানা ধুতি কিনবে বলে। পাই পাই করে পয়সা গুটিয়েছিল বেচারি। কোথাকার পয়সা কই পড়ল।
     দিনের পরে দিন, রাতের পর রাত হা ভাত, হা চাল, হা কেরাসিন, হা কাপড় করে হা হুতাশ করে ফেরা লোকগুলো প্রথমে জিনিসপত্রের হিসেব নিলো। কার মোড়া গেল, কার মুরগি, কার হাঁস। তারপর মানুষের হিসাব।
     বোমাটি যখন ফুটেছিল এদের বেশির ভাগই ছিল শাক-সবজি, চাল-ডালের দিকে। সেজন্যে অনেকটা বেঁচে গেল। বস্তিতে গিয়েই হিসাব বেরুলো যে প্রায় সবাই বিনা বিপদে ঘুরে এসেছে। শুধু জগুর খবর বেরুলো না। সে নেই।
     জগুর অবস্থা বৌ মরবার পর থেকে বাড়ি ঘড় ছেড়ে দেবার মতোই। ছেলে-দু’টোকে কোথাও কোন গ্যারেজে হোটেলে দিয়ে মানুষটা এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ায়। বেমারি মহিলাটি ফাটা কাঁথার দলাতে যদ্দিন পড়েছিল, তদ্দিনও ছেলেগুলোও গ্যারেজ হোটেল থেকে ঘরে ফিরে আসত, স্বামীও এসে ঘরে ঢুকত। জগু নারকেল নাড়ু আর সন্দেশের দোকান সেই কবেই ছেড়ে দিয়েছিল। বৌ যদ্দিন দুর্গন্ধময় ফাটা কাঁথার মধ্যে পড়ে থাকত তদ্দিনও সে লাল চা আর বন বিস্কুটের দোকান দিয়েছিল। বৌ মরবার পরে সে সেসব বাদ দিয়ে মদের ধান্দা শুর করল। সে সময় ও ড্রাইভারণীর বাড়িতেই পড়ে থাকত। প্রায় চাকরের মতো ছিল। শেষের দিকে চাকরই হয়ে পড়েছিল । মহিলাটি মদের বোতল আর গ্লাস চোখের সামনে নাচিয়ে ওকে দিনের পর দিন খাটিয়েছিল । শেষের দিকে মানুষটি নিজেও বেমারি হয়ে পড়ল। কাজ করতে পারছিল না, পেটের ব্যথাতে কোঁকাতে থাকল। তাকে তখন ড্রাইভারণী কেমন কিল লাথি দিয়ে বের করে দিয়েছিল বস্তির সবাই দেখেছে। কিছু দিন থেকে জগুকে দেখা যাচ্ছিল মণিহারী দোকানগুলোর সামনে ঘোরাফেরা করতে। কানুলাল একটা টুকরিতে লাল-নীল চুড়ি নিয়ে বসত, জগু গিয়ে তার পাশে বসে থাকত। বাগানের আদিবাসি মেয়েরাই মূলত তার গ্রাহক ছিল। নতুন বাগানের মেয়েরা আগের মতো লাল পাড়ের হাঁটু অব্দি শাড়ি পরে আসে না। ওদের অনেকের বাড়িতেই সুন্দর সব সোফাসেট, স্যান্ডেল খুলে ঢুকতে হয়। বোনাসের টাকাতে এরা সাইকেল কেনে, পরে আসে কামিজ-চুড়িদার। সব কিছু সময়ের সঙ্গে পালটে গেলেও পাল্টায় নি তাদের কাঁচের চুড়ি-প্রীতি। কানুলাল মেয়েদের চুড়ি পরাতো, আর জগু বসে বসে তাই দেখত। মিনতি, জোনের মায়েরা কখনো কখনোবা ওকে কানুলালের কাছে বসে থাকতে দেখে হাসি মস্করা করত। ফুলই মনে হয় বলেছিল, না মীরার মা বলেছিল জগুর বৌ যখন বিয়ে করে এসেছিল হাতে প্রচুর লাল নীল সবুজ বালা পরেছিল।
    বোমাটা ফুটেছিল কানুলাল যেখানে বসে আর তার পাশে হার-দুলের হরিনারায়ণের দোকানের মাঝখানে। কসাইখানার চেহারা নিয়েছে জায়গাটা, মিলিটারি কর্ডন করে ফেলবার পরেও সবাই দেখেছিল চারদিকে ছড়িয়ে আছে ভাঙ্গা কাঁচের চুড়ি। লাল টুকরো কয়টা গিঁটে আটকেছিল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা একটা হাতের মাংসে। সবুজ কয়েক টুকরো পড়ে রয়েছিল লালচে মাংস এক টুকরোর উপরে। এক দলা নাড়ি ভুঁড়ির মধ্যে পাক খেয়ে পড়েছিল হলদে কাঁচের চুড়ি, ভাঙ্গে নি, ফাটে নি, গোল একখানা চুড়ি। ফুল, জোনের মায়েরা জানত জগুর বৌ নতুন বৌ হয়ে যখন ছিল বেশির ভাগ সময়ই পরত ঐ হলদে রঙের চুড়ি।
     জগুর দেখা আর কেউ পেল না।
    রাতে লোকগুলো ঘুমোয় নি। এখানে ওখানে জটলা করে বসেছিল। সবার বুকে নরমাংসের এক একটা কসাইখানা, মনগুলো ডুবে গিয়েছিল শুকিয়ে চড়চড়ে রক্তের দলাতে। নীরব বস্তিতে সন্ধে সাতটাতেই বিরাজ করছিল এক অদ্ভুত নীরবতা, অনেকেই দোয়ারে বেন্দা দিয়ে ভেতরে বসে রয়েছিল। কারো চুলোতেই আগুন ছিল না। চিঁড়া মুড়ি যা পেয়েছে তাই গিলে লোকগুলো পড়ে আছে। পারাপক্ষে তারা একসঙ্গে থাকতে চাইছে। কোথাও কোনও শব্দ ছিল না। বাচ্চাগুলোও কান্নাকাটি করে নি। শুধু বস্তির প্রায় সবাই শুনেছিল একটি মেয়ে মানুষের গলা, “ভাত দে না, ওই আমি ভাত খাবো তো... দে ভাত দে।” অস্বাভাবিক গলাটা সবার পরিচিত। এ সুমলা, বুলেনের পাগল বৌয়ের গলা। বুলেন আজকাল বাড়িতে প্রায় থাকেই না, এলেও আসে রাতে। ছেলেই যা পারে মায়ের করে দেয়। সুমলা খেরের মতো শুকিয়ে গেছে। নবীনের বাড়িটা বুলেনের কাছেই। নবীন প্রায়ই চিৎকার করলে ওকে ভাত একমুঠ দিয়ে আসে।

    ভাত , ভাত করে মেয়ে মানুষটির চিৎকারের মাঝে মাঝে হঠাৎ শোনা গেল গাড়ির শব্দ, ভারি বুটের শব্দ। কী হয়েছে বুঝবার আগেই মিলিটারি পুরো বস্তি ঘিরে ফেলল। মিলিটারি কেন বস্তিতে এসেছে সবাই বুঝতে পেরেছে। ভাঙুয়ার ছেলে টাইগার আর বুলেনের জন্যেই বস্তিতে মিলিটারি এসেছে। লোকে টের পেলো মিলিটারির দলটা প্রথমে বুলেনের ঘরের দিকই গেছে। ওরা যখন বুলেনের ঘরে গিয়ে ঢুকল তখন সুমলা ভাত খাচ্ছিল। ওর চিৎকারে থাকতে না পেরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও নবীন আলু একটার সঙ্গে ভাত একমুঠো দিয়ে বসিয়েছিল। নবীন ভাবছিল ওকে ভাতগুলো খাইয়ে সে বিছানা নেবে। তার এখন এসময় আর কিছুই ভালো লাগছিল না। সুমলা মাটি-বালিতে একাকার করে ভাতগুলো খাচ্ছিল। নবীন কাছেই মোড়া একটাতে বসে ঘুমে পড়ে যাচ্ছিল। প্রচণ্ড এক লাথিতে সে বসার থেকে ছিটকে পড়ল। তারপরে সে টের পেল আরেকটা সোজা লাথি পড়েছে ওর দেহের গোপন অঙ্গে। যন্ত্রণায় কোঁকিয়ে সে পড়ে গেল। চোখে আঁধার দেখতে শুরু করল। কেউ একজন বস্তির মধ্যি দিয়ে তাকে ছ্যাঁচড়ে নিয়ে গেল। বস্তির লোকে দেখতে পেল নবীনের দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে রক্তের একটি ধারা মাটিতে পড়ে পড়ে যাচ্ছে।
     বন্ধ না দিয়েই সব বন্ধের মতো হলো। চারদিকে কেবল মিলিটারি। বস্তিতে যখন তখন আর্মি আসে। টাইগার আর বুলেনের বাড়ি দু’খানা মিলিটারিতে ছন্নছাড়া করে ফেলেছে। হরি ভাঙুয়া আর ওর বৌ সেই কবেই গ্রামে চলে গেছে। সুমলার দিকে তাকানো যায় না। সকালে যদি ওকে উঠোনের কাঠ-লিচু গাছে বাঁধা দেখে সবাই জানে রাতে বুলেন এসেছিল। সে অনবরত ভাত ভাত বলে চেঁচাতে থাকে, ওর গলাটাও বসে গেছে। বুকের শ্বাসের সঙ্গে ভাত শব্দটা এমন ভাবে মিলে মিশে বেরিয়ে আসে যে লোকে ভাবে সে কাঁদছে। যেদিন কাঠ-লিচুর গাছে বাঁধা থাকে না, সেদিন সে মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফেরে। পেটিকোট একটা পরে কোনও এক বাড়িতে গিয়ে ঢোকার পথে বসে থাকে। ভাত সামান্য দিলে অনেকক্ষণ ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেয়ে তারপর সেখানেই শুয়ে থাকে। বুলেন কোনও এক ফাঁকে এসে ছেলেটাকে নিয়ে গেল। সুমলাকেও যে বেঁধে রেখেছে তেমন নজরে পড়ল না। সে আপন মনে বস্তির বাড়ি বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়।
     বেশির ভাগ সময়ই সুমলা মণিদের বাড়িতেই থাকে। কী করে যেন বোঝে যে এখানে একটি মেয়ে মানুষ আছে যে তাকে ভালোবাসে। বোমাটা ফোটার পর থেকে মণির স্কুল প্রায় বন্ধ হবার মতোই। এমনিতেও কিছুদিন থেকে ওর স্কুল অনিয়মিত হচ্ছিল, সিঙের গ্যারাজে যাওয়াটাই নিয়মিত হচ্ছিল। একদিন সকালে মণিকে নিয়ে যেতে সিং নিজে এসেছিল। লম্বা-উঁচা গড়নের মানুষটি মায়ের সামনে মণির গুণগান করেছিল। ওর হাতযশের কথা বলছিল, আর বলছিল কত কম সময়ে সে কত ভালো গাড়ি চালাতে শিখেছে। এই কথা বললেই ওর কলজে শুকিয়ে যায়। কেনই বা ওকে গাড়ি চালাতে শিখতে হবে? ভীষণ ভয় করে ওর। কখনো বা ইচ্ছে করে বলে, যাবি না তুই সিঙের গ্যারেজে। পারে না বলতে, আজকাল এই মণির হাতখানার জন্যেই বাজার বন্ধ থাকলেও ওর চুলো জ্বলতে থাকে। কখনো বা গাড়ি স্কুটার নিয়ে কিছু লোক এসে মণিকে বাড়ি থেকেই ডেকে নিয়ে যায়। সে শুনেছে মণি হাত দিলেই বুঝি গাড়ির কল কব্জার কোথায় কী হয়েছে টের পেয়ে যায়। সিং মণিকে চলবার মতো টাকা পয়সাও দেয়। মালতীর অবসর সময় তাই ভরে পড়েছে সুমলাকে নিয়ে। শিশুর মতো মেয়ে মানুষটি। ওকে কল পাড়ে নিয়ে গিয়ে ঘসে মেজে স্নান করায়, নিজের শাড়ি পরিয়ে দিলে তেল মাখিয়ে চুল আঁচড়ে দেয়। রোগা হয়ে পড়া মেয়েটিকে ইচ্ছে মতো এদিক ওদিক করানো যায়। স্নান টান করে, চুল আঁচড়ে, ভাত ক’টা খেয়ে সুমলা যেভাবে মনির মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে দেখলেই জলে ভেজানো কোমল চালের মতো মনের মানুষটি গলে যায়। কখনো বা ওর বুকে তোলপাড় করে, কী করে সইবে এই মন এতো সব দুঃখ? ভালোই হলো, সুমলার মন একটা ভাঙ্গা রেডিওর মতো হয়ে গেছে। হাজার টেপাটেপি করলেও গানের সুর আর বাজবে না। ছুঁড়ে ফেলে আরো ভেঙ্গে ফেললেও কিছু নেই। অনায়াসে কাঠ-লিচু গাছ একটাতে বেঁধে রাখা যায়। কখনো বা শুয়ে পরা সুমলার কপালে হাত দিয়ে গুনগুনিয়ে উঠে মালতী, “ বারীতে বগরী রুব...”১
    সুরটা শুনলে সুমলা এমন হেসে উঠে যেন দাঁত না উঠা শিশু কন্যা সে।
    নবীনকে মিলিটারি ধরে নিয়ে গেছে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে। কী করেছিল মানুষটি? ভাক ভাত করে চেঁচানো একটি মেয়ে মানুষকে ভাত দিয়েছিল। বস্তির মানুষের মুখে মুখে গড়াচ্ছে বিচিত্র সব খবর, সত্যি মিথ্যা কেউ জানে না। নবীনকে উলটো করে বেঁধে রেখেছে, পুরো শরীরে গরম জল ঢেলে দিয়েছে, শরীর ফুলে ফুলে গুটি বসন্তের রোগীর মতো দেখাচ্ছে। আরেকটা কথা চুপি চুপি শোনা যাচ্ছে, নবীনের আলু-বেগুন মিলিটারি থ্যাৎলেই ফেলেছে। খিদে আর ভয়ে মানুষটি কুঁকড়ে গেছে। কী অন্যায় করেছিল বই খাতা বিক্রি করে পেটের ভাত জোগাড় করে যে ঠাণ্ডা ছেলেটি? বুলেন না হয় জংলি পার্টিটিতে গিয়ে ঢুকেছে, নবীর তার স্ত্রীকে ভাত একমুঠো দিল বলে কোন আইনে শাস্তি পাবার মতো অপরাধ হয়ে গেল?
     খিদেয় মরা মানুষগুলো বেশিদিন বিড়বিড়িয়ে থাকতে পারল না।একদিন সকালে সবাই বস্তির থেকে বেরুবার রাস্তার মুখে জড়ো হলো। কে কী বলল, কে লোকগুলোকে ডেকে আনল, কী করেই বা মানুষগুলো জড়ো হলো কেউ জানে না। শুধু জড়ো হয়েছে এরা, এটাই সত্য। সে যেন একটা বর্ষার কালো মেঘে ঢাকা আকাশ। এখনই গুড়গুড় করে মেঘ গর্জন করবে, বিজলি ছুটবে, বজ্রপাত হবে, শিলাবৃষ্টি হবে। ধুইয়ে নেবে ধরণী, কালো মেঘের দলা একটা মতো লোকগুলো মিলিটারি ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছুলো। মহিলারা গিয়ে ঢুকল। পুরুষেরা বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। তিনি ঘণ্টা প্রায় পরে একদিনে মালতী আর দিকে মিনতি ধরে ধরে নবীনকে ক্যাম্প থেকে বের করে আনল। পোকে ধরা বেগুন গাছের ডগার মতো ঝর ঝরে হয়ে পড়েছে মানুষটি। পা ফেলতে পারছিল না। এদিক ওদিক করে থাকতেই লাতু একখানা ঠেলা নিয়ে এসে হাজির হলো। ঠেলাতে উঠতে মানুষটির কষ্ট হচ্ছিল। কাছে থেকে দেখেছে যারা টের পেল নবীনের যৌনাঙ্গ ফুলে গেছে। বাইরে বাইরে বুড়ো ডাক্তারকেও সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে এরা নবীনকে বাড়িতে নামিয়ে দিল। বুড়ো নবীনকে ঔষধ দিল, চিকিৎসা করল। নবীনের বিশৃঙ্খল, নির্জন ঘর থেকে বেরিয়ে আসবার সময় সবাই লক্ষ্য করল বুড়ো ডাক্তারের চোখে জল ছলছল করছে। বাইরে জড়ো হয়ে আছে একই বর্ষার কালো মেঘের মতো কালো মানুষের দলা।
     “ মানুষটাকে দেখবি, ভালো হবে সে, বুড়ো ডাক্তারের ঔষধ পড়েছে।” কথাটা বলে ডাক্তার চলে গিয়েছিল।
     যে যেভাবে পারে নবীনকে দেখে রাখছিল। যারা পারে তারা একে ওকে দেখেই রাখে, তবু কখনো বা কারো ভাগে বেশি করে পড়ে। মণির মায়ের ভাগে সুমলা , মীরার মায়ের ভাগে জোনের মা। সেভাবেই নবীনের ভাগ বেশি করে পড়ল মিনতির হাতে। সে নবীনের সেবা যত্ন করতে বেশি বেগ পেল না, নবীনের পয়সা কড়ি কিছু ছিল।
     মণির মায়েরই মাঝে মধ্যে কষ্ট হচ্ছিল। সুমলার পুরো দায়িত্ব সে কী করে নেয়? হাত ছাড়া একখানা মুখকে কে কী ভাবে সামাল দিতে পারে? কারই বা এতো শক্তি আছে? উপায় না দেখলে সুমলাকে অন্যের উঠোনেও বসবার জন্যে ছেড়ে দেয়। মণিও একদিন বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। প্রায়ই ভাবে কাঠ-লিচু গাছের নিচে বেঁধে রেখে আসবে। শিশুর মতো হাসিটা দেখলে আর পারে না সে। দুপুরে ভাত খাবার সময়, রাতে শুবার সময় বুকখানা ধড়ফড় করে উঠে , কই বা মেয়েটি! কিছুদিন থেকে ও চোখের আড়াল হলেই সে ধড়ফড় করে উঠে। কই বা আছে? কী বা হলো? ব্যাকুল হয়ে সে মেয়েটির সন্ধানে যায়।
     
   সেদিন ঘরে চাল ছিল না। খুদ ক’টা বসিয়ে মণিকে আলু কিছু ভর্তা করে খেতে দিয়ে সে সুমলাকে নিয়ে বসেছিল। মণি মুখে কিছু বলছিল না। বোমা ফোটার আজ দশদিন হয়ে গেল। একটা বাজার বারও বসে নি। সে হাতের চালগুলো ভেজে মুড়ি করে বাঁধা ক’ঘর গ্রাহককে দিয়ে যা কিছু টাকা পয়সা পেয়েছিল সেসবও সেই কবেই শেষ। মণিকে সিং যা দিচ্ছে তাতেই মা-ছেলের চলে যায়। কিন্তু হাত-হীনা মুখখানা? ছেলের ক্লান্ত মুখখানা দেখে সে ঠিক করল, কাল একে লিচু গাছের তলাতে বেঁধে রেখেই আসবে। যা হয় হবে, ওর একটা মানুষ আছে না?
     এসব ভাবতে ভাবতেই আধা রাত পেরিয়ে গেল। চোখ সামান্য বুজে আসছিল কি, দোয়ারে টোকা পড়ল,
    “বৌদি, এই বৌদি, উঠ না ।”
    “কে?”
    “আমি, বৌদি।”
    সে দরজার বেন্দা খুলে দিল। বুলেন ভেতরে এলো। শরীরে ওর মিলিটারির পোশাক। কোমরে বন্দুক, পিঠে বন্দুক। সে নিজেই দরজাটা বন্ধ করে দিল।
     “এই নে।” মালতীর দিকে একটা টাকার বান্ডিল এগিয়ে দিল। খসমছ করে বের করে দেয়া নোটগুলোর কয়েকটা পড়ে গেল। সুমলা একটা ধারাতে পড়ে ঘুমোচ্ছিল। বহুদিন পরে স্বামী বুলেনের গলা শুনে দেশী কুকুরের মতো কোঁ কোঁ করে গুটি গুটি করে ওর দিকে এগিয়ে এলো। বুলেন ওর দিকে একবার তাকালো। মণির মায়ের পরিয়ে দেয়া ম্যাক্সিটা সুমলার আবর্জনাবৎ শরীরে ঝুলে আছে। শুকনো, ঠাটা পড়া স্তনগুলো ওর ঝুলঝুলে চামড়াতে পাক খেয়ে বসে থাকা বিছের মতো দেখাচ্ছে। রসকষ নেই এমন দুটো লাকড়ির মাঝখানে পোকাতে ধরা ধরা আমের মতো দেখাচ্ছে ওর যোনীদেশ। কালো বেগুনি সামনা ছেঁড়া ম্যাক্সিটি ওর শরীরে শকুনের কালো পাখনা দুটির মতো ধপ ধপ করছে। কোঁ কোঁ করে সে বুলেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক যেন হামাগুড়ি দিয়ে শিশু একটি মায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সে হাত দুটি ওর দিকে এগিয়ে দিচ্ছে। বুলেন পকেট থেকে আরো কিছু নোট বের করছে। মণির মা দোয়াতের বাতিটা জ্বালাচ্ছে। আলোতে এবারে সে বুলেনকে স্পষ্ট দেখতে পেল, ওর চেহারাটা আগের থেকে ভালো হয়েছে। নবযুবকের মতো আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে তাকে। শরীর কঠিন আর পেশীবহুল হয়েছে। রোমের জ্যাকেটটার জন্যে ওর কাঁধ আর বুক আরো সুঠাম দেখাচ্ছে। সুমলা এবারে হাঁটু ভাজ করে ওর পায়ে ধরেছে গিয়ে। বুলেন এবারে ওর দিকে তাকালো। ওর চোখে সামান্য সময়ের জন্যে খানিক মায়া দেখা গেল, পর মুহূর্তেই তার ভোগের সুস্পষ্ট ছাপ পড়া মুখে আনাচে কানাচে ফুটে উঠল লুকোতে ব্যর্থ তীব্র এক ঘৃণা। মণির মা হঠাৎ দেখল সুমলা ওর যৌনাঙ্গ ধরে ঠাপাচ্ছে। মণির মায়ের শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল। ওর চোখের সামনে ভেসে উঠল ক’বছর আগের দেখা দৃশ্য একটি। বুলেনের কোনও এক কথাতে রাগ চড়েছিল। তখন সুমলা সামান্য সুস্থ ছিল। কখনো বা বুলেনের জন্যে ও নিজেই ভাত রান্না করতে পারত। ওর শরীরটাও তখন ভরা ছিল। সেদিনও সে কোঁ কোঁ করে বুলেনের কাছে যাচ্ছিল আর বুলেন শক্তপোক্ত মাংসপেশি আর গটমট হাড়ের কঠিন হাতে ওকে ঠেলেঠুলে দূরে পাঠাচ্ছিল। সুমলা তখন বুলেনের পরনের গামছা ফাঁক করে যৌনাঙ্গ ধরে ঠাপিয়েছিল। মণির মায়ের বিকল হয়ে পড়া মগজে বুঝেছিল সুমলার ধোঁয়াসাময় দুনিয়াতে ভাতমুঠো জোগাড় করে দেবার মানুষটার আসল চাবিকাঠিটি কই। সেদিন মণির মা ছেঁড়া ফাটা আজিয়ে রাখা দোয়ারের ফাঁক দিয়ে এই দৃশ্য দেখে শুধু চোখের জল ফেলেছিল।
     আজ কিন্তু বুলেন সেই কটমট হাড়ের হাতে নয়, পায়ে পরে আসা জুতোতে সুমলাকে ঠেলে দিচ্ছে। মালতী, মালতী নয় ফেলানি, ফেলানির নামের মধ্যেই কুয়োর মধ্যে ঝপাং করে ভারি জিনিস একটা পড়ার শব্দ লেগে আছে। সে একটা সূর্যমুখী লংকার মতো সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ালো। সুমলার হাত ধরে বুলেনের কাছে থেকে সরিয়ে উঠিয়ে দিল। সুমলা কোঁকিয়ে উঠল। ফেলানি আবার ওকে শোবার বস্তাতে নিয়ে গিয়ে ফেলল। তারপরে বুলেনের সামনে গেল। লংকা গাছের ডগার মতো থরথর করে কাঁপছে সে, চোখগুলো যেন রাগে ফেটে পড়বে। মাটিতে পড়ে থাকা নোট গুলো তুলল।
    “এই নে, তুই পাগলিকে দেখে রেখেছিলি, তোর অনেক কাছে আসবে।” নোটগুলোকে দলা পাকিয়ে নাড়ু করে বুলেনের মুখের উপর ছুঁড়ে মারল সে। তারপর তার মুখে থু থু দিল। , “শালা! পুরুষ জাত! তোরা শুধু জানিস মেয়েদের গরম গরম মাংস খেতে। মাংসের লোভই তোদের আসল কথা। মাংস শুকোলেই তোরা মেয়েদের নিংড়োনো কুশিয়ার করে ফেলে দিস।” সে জোনের মায়ের মতো উরুতে এক থাপ্পড় দিয়ে বলল কথাটা, “তোদের মাংসের লোভ, রাজ্যের লোভ, টাকার লোভ। কোত্থেকে এতো টাকা পেলি? কোথায় পেলি? মানুষ মেরে এনে টাকা দেখাচ্ছিস।” হাতের শেষ নোটগুলোও সে তার মুখের উপরে ছুঁড়ে ফেলল, “ পুরুষ হতে এসেছিস! বৌর শরীর শুকিয়েছে বলে ওকে গাছে বেঁধে রেখে চলে যাবি, টাকা দিয়ে পরের হাতে সমঝে যেতে তোর খারাপ লাগল না? তুইও যা, তোর মানুষ মেরে নিয়ে আসা টাকাও নিয়ে যা।” আবার সে তার মুখে থু দিল। সে পা নাড়িয়ে বন্ধুকটা হাতে তুলে বলল,
    “কথাটা ভালো হবে না বলে দিলাম। আমি আগেই বুঝছিলাম, তুই তোর ওই কোঁচ স্বামীকে ভুলতে পারিস নি।” মুখে তার মদের গন্ধ।
    “বেরিয়ে যা , আমার ঘর থেকে বেরিয়ে যা।”
     একটা মেয়ে এসে ঢুকল। নিজের ভাষাতে ওকে কিছু একটা বলল। বাতির তেল ফুরিয়ে যাচ্ছিল।, ফাটা কাপড়ের সলতেটা ভমভম করে জ্বলে উঠে পুরো ঘরটা আলোকিত করে ফেলল। আলোতে মেয়েটি জিলকে উঠল। বেটে স্বাস্থ্যবতী চেহারা। মুখখানা গোল, ফল বাকলের মতো মাংসল তেলতেলে পিছল মুখটা চিকচিক করছে। পরনের কাপড় কলসের মতো গোল, পাকা মিষ্টি কুমড়ার মতো বুকখানা ঢাকতে পারে নি। গায়ের রং বুলেনের মতোই। সে এসে বুলেনের পিঠে হাত দিয়েছে। বুলেন ফিরে তাকালো। ওর রাগ অভিমান নিমেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। মুখে ছড়িয়ে পড়ল হাসি। মেয়েটি ওর হাত ধরে নিয়ে গেল। মেয়েটি দরজা অব্দি গিয়ে আবার ফিরে এলো।
    “টাকাগুলো রাখ । এক হাজার ঘণ্টার বন্ধ হবে। তখন না খেয়ে মরবি।”
    সে আবার উরু চাপড়ে বলল, “নিয়ে যা তোদের পাপের পয়সা। দিয়ে যা বন্ধ, মারতে থাক মানুষ। পারলে বাঁচব, নইলে মরব।”
    ওর হাতপা গুলো জ্বলছে, বুকটা ধড়ফড় করছে। একটা পাথর যেন বারে বারে ওর বুকটা চেপে ধরেছে। তার চিৎকার করবার ইচ্ছে হচ্ছিল।
 
  “বোকার মতো বলবি না। সে বলেই পাগলিকে পয়সা দিতে এসেছে। আর কেউ হলে আসত না।” মেয়েটি আবার টাকা দিচ্ছিল।
    “আসতে হবে না। আমি পারলে ওকে খাওয়াবো, নাহলে মারব।” কেন যেন মেয়েটির উপর ওর বড় রাগ চড়ছিল। সে হঠাৎ বলে দিল, “তুই এই বৌ থাকা মরদটাকে ভর করেছিস কেন?”
    “ ও বুঝি ওর বৌ?” মেয়েটির মুখের বাঁকা হাসি দেখে ফেলানির শরীর পুড়তে শুরু করল।
    মেয়েটি বেরিয়ে গেছে। সে চিৎকার করে উঠল, “তুই ওদের চিনিস নি। ওদের হাতে মানুষের রক্ত লেগে আছে।
    রক্তের স্বাদ পেলে মানুষের ভীষণ লোভ হয়। মেয়ে মানুষের মাংসের লোভ, টাকার লোভ, রাজ্যের লোভ, লুটে পুটে খাওয়ার লোভ; ওকে লোভে পেয়েছে।” মণির মা হাঁপাচ্ছিল। ভেতরে সুমলা পাগলি হাঁটুতে মাথা গুঁজে হিক্কা তুলে তুলে কেঁদে চলেছে। মণি কোনোদিন না দেখা মায়ের রণচণ্ডী মূর্তিটা দেখে তাকিয়ে আছে।
    “ ও মা, কী হয়েছে তোর?” মণির গলাতে ভয়।
    মালতীর চোখজোড়া তখনো গোল গোল হয়ে আছে। ছেলেকে কথাটা বলতে গিয়েও ওর স্বরে ধেনো লংকার ঝাল থেকে গেছে, “ তোকে যদি এই লোভীগুলোর সঙ্গে দেখি, বলে রাখলাম আমি, মাকে আর পাবি না।”
    “আমি কেন যাব?” মণি অবাক হলো।
    “হ্যাঁ, যাবি না। পারিস যদি কাজ করে দু’মুঠো খাবি, না পারলে উপোস থাকবি। লুটপাট করে খেতে যাবি না। আমি বলে দিচ্ছি।”
    মণি এই আধপাগলি মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কী হয়েছে আজ মায়ের? সুমলা কোঁকিয়ে কোঁকিয়ে ছ্যাঁচড়ে ছ্যাঁচড়ে মালতীর দিকে এগিয়ে এলো। মণির মা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। পুড়ে যাওয়া চোখজোড়াতে দু’ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ল।


টীকা:
     ১) অসমিয়া ঘুম পাড়ানি গানঃ বিছরাতে বড়ই রুবি.../বাগানে বপন করবি কুল...

0 মন্তব্য(সমূহ):

ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

বাছাই পোষ্ট

অধ্যায় এক (১)

ফেলানি ( 'ব্যতিক্রম' মাসিক কাগজে ধারাবাহিক বেরুতে শুরু করল 'ফেলানি' জুন , ২০১৪ থেকে। )        ফে রিখানা ব্...

ই-মেইলে গ্রাহক হোন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

আমাকে চিঠি লিখুন

ভারতীয় ব্লগার দল

যারা পড়তে আসেন

ফেসবুকের সঙ্গীরা এ পথে জুড়তে পারেন

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন?

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন? ০২

যারা নিয়মিত ফেলানি পড়েন

যে ক'জন এখানে এলেন

কে কী বললেন

আমাদের অলঙ্করণ সহযোগী

বাংলা ব্লগের প্রবাহে জুড়ুন !

কালের পদধ্বনি

ক' ফোটা স্বচ্ছ জলের সন্ধানে

Powered by Blogger.

ফেলানি

I heart FeedBurner

Blog Archive

কেমন লাগল বলুন !

এখানে আমার অনুবাদ দেখুন

এই ব্লগ সম্পর্কে

ইংরাজি সাহিত্যের ডক্টরেট অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নামপাঠক-সমালোচক মহলে বিপুলভাবে সমাদৃত এই লেখক ইতিমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেনসেগুলো মধ্যে আছে ১৯৯৩তে পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সেতুনামের লিটিল ম্যাগাজিনের থেকে শৈলেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত সাহিত্য সেতু পুরস্কার, ১৯৯৫তে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮তে দিল্লির কথানামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দেয়া কথা পুরস্কার১৯৯৫তে অসম সাহিত্য সভার দেয়া বাসন্তী বরদলৈ স্মৃতি পুরস্কারদিতে চেয়েছিলকিন্তু তিনি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে সাহিত্য কর্মে তিনি লেখকের লিঙ্গভেদ মানেন না

১৯৯৪তে প্রকাশিত তাঁর অয়নান্তনামের উপন্যাসটি অসমিয়া উপন্যাসের প্রথম শ্রেণির গুটি কয় উপন্যাসের মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়ে থাকেঅয়নান্তের নবছর পর তিনি লেখেন এই বিখ্যাত উপন্যাস ফেলানি২০০৩এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গেল কয়েক দশকের জাতি-দাঙ্গাতে অভিশপ্ত ও অশান্ত অসমজাতি-দাঙ্গা ও উগ্রপন্থার শিকার দরিদ্র মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের এক মর্মস্পর্শী উপন্যাস এটিফেলানির চরিত্রগুলোর অবস্থান সমাজের প্রান্তে , কেন্দ্রে নয়সমাজ যে মানুষগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করছে তাদের প্রতীকআবার সমাজের কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে প্রান্তীয়তাতেই নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করবার যে প্রক্রিয়া তার ব্যঞ্জনা-ঋদ্ধ এক সত্তার নামও ফেলানিমৃত্যু যেমন সহজ তেমনি জীবনের প্রতি সুতীব্র ভালোবাসাও মৃত্যুর বিপরীতে উপস্থাপিতজাতি-ধর্ম নয়, সুবিশাল মানবতার পরিচয়েই ফেলানির পরিচয়ফেলানির পৃথিবীতে অজস্র চরিত্র আর বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে নিষ্করুণ সমাজ সত্য এবং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাঠক যাত্রা করবেন সামাজিক উপলব্ধির অন্য এক সীমান্তের দিকে

টংলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অরূপা দামলনামের সাহিত্য-সংস্কৃতি মূলক অব্যবসায়িক সাময়িকীর সম্পাদনা সহযোগীতাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলঃ মৃগনাভি ( ১৯৮৭), মেপল হাবির রং ( ১৯৮৯), মরুযাত্রা আরু অন্যান্য ( ১৯৯২), অয়নান্ত ( ১৯৯৪), মরুভূমিত মেনকা আরু অন্যান্য (১৯৯৫), কাঁইটত কেতেকী (১৯৯৯), পাছ চোতালর কথকতা (২০০০) , অরুণিমার স্বদেশ (২০০০), মিলিনিয়ামর সপোন (২০০২)


অনেকদিন ধরে আমার স্বপ্ন ছিল এই শিরদাড়া খাড়া করা উপন্যাসখানি বাংলাতে অনুবাদ করবার। এবারে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো


আমাকে নিয়ে

My photo
Tinsukia, Assam, India