ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

‘যে গাছে ফল ধরে না তাকে বলে নিষ্ফলা কিন্তু কেউ কি পরীক্ষা করে দেখেছেন মাটি? যে ডাল সহজে ভেঙ্গে যায় তাকে বলে ঠুনকো। কিন্তু তার উপর কি জমেনি অজস্র বরফ?’ ---- বার্টল ব্রেখট

স্বাগত

ফেলানি উপন্যাস পড়তে আপনাকে স্বাগত। এক্সপ্লোরার নয়, অনুগ্রহ করে মজিলা ফায়ার ফক্স খুলে বসুন

অন্যদের পড়তে বলুন

book


           
  
কাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে গেল মণির মায়ের। অবশ্য গত রাতে সে বেশ তাড়াতাড়িই শুয়ে পড়েছিল। মণি একটা বিয়ের ভাড়া নিয়ে গেছে। দুই রাত থাকতে হবে। বর কনে নিয়ে একেবারে আসবে। দিনরাতের তফাৎ ভুলে গিয়ে খাটছে ছেলেটা। মা-ছেলের পেট চালাবার পরেও সিঙের ধার মারছে। মাঝে মধ্যে তার গ্যারেজে গিয়েও কাজ করে দিয়ে আসে। দুই একজন কখনো বা তাদের গাড়ি-স্কুটার বাড়ি অব্দি নিয়ে আসে। মাঝে মধ্যে মণিকেও নিয়ে যায়। কখনো বা মালতী ছেলের হাত দু’খানা দেখে। আঙুলের গাঁটগুলো কঠিন হয়ে বেরিয়ে পড়েছে, তালু সোজা হয়ে গেছে। ছেলেটার গায়ের সেই ফর্সা রং আর নেই। রোদে বাতাসে পুড়ে গেছে। মালতীর নিজেরও কি আর সেই পুকুর ভরা মাছের বাড়িতে বাড়িতে কাটানো দিনগুলোর মতো আছে? নেই। টগর ফুলের মতো হাতের ঠাঁই এখন এটা এক গাঁট বেরোনো কঠিন হাত। যদি দেখত সেই মানুষটা, কীই বা বলত এখন? সেই যে সেগুন পাতের মতো ছড়ানো হাতের মানুষটা?
    শরীরের কাপড়টা ভালো করে জড়িয়ে নিলো। পাহাড়ের কাছের এই জায়গাতে শীত বড় তাড়াতাড়ি নেমে আসে। আজ বহু দিন পর সে আকাশের দিকে তাকালো। নীল রংটা পরিষ্কার হয়ে এসেছে। নীল পাহাড়টাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকক্ষণ সে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে রইল। নীল রংটা আকাশের নীলের মতো এতোটা উজ্জ্বল নয়, খানিকটা সবুজ মেশানো। মাঝের উঁচু পাহাড়ের উপরের সাদাটুকু এই ভোরে স্পষ্ট হয় নি। সামান্য আভাস শুধু পাওয়া যাচ্ছে।
    হাতে ঝাড়ু নিয়ে সে উঠানে নেমে গেল। উঠোনে মাঝে মাঝেই ঘাস উঠেছে। কতদিন এই ঘাসগুলো ছাটতে পারে নি। গোলমাল, গোলমাল করে করে লোকগুলো আর কোনোদিকে নজরই দিতে পারে নি। আজ এই মাস কয়েক ধরে খানিক শান্তি হয়েছে। আবার বা কী হয়? সেই মণিদের ধরে নিয়ে যাবার পরে কম কিছু হলো? শুধুই কি এখানে? সেবারে সেই যে একটা রেল গড়িয়ে পড়ল, তারপরে আরো একটা। কত মানুষ মারা গেল। কত বাসে বোমা ফুটল। আজ ক’মাস ধরে কিছু ঘটে নি। নবীনের থেকেই সে জেনেছে, বুলেনের পার্টিকে সরকার সম্প্রতি আলোচনার জন্যে ডেকেছে। সেজন্যেই মনে হয় গোলমাল সামান্য কমেছে। রোদ কোনদিকে গেল, বৃষ্টি কোনদিকে গেল কেউ টেরই পেল না। দেখতে দেখতে আশ্বিন মাস এসে গেল। পুজোও এলো বলে। সে যতটা পারে হাতে ঘাসগুলো ছিঁড়ে সাফ করবার চেষ্টা করে বাদ দিল, সময় করে কোদাল-খুন্তি নিয়ে সাফ করতে হবে। ঝাড়ু দিয়ে বাকি উঠোন পরিষ্কার করে নিলো। কালী থানের পাশে কালী বুড়ির লাগানো গাছে শিউলি ধরেছে। তলাটা সাদা হয়ে গেছে। এক দু’টো হাতে নিয়ে সে শুঁকে দেখল। গন্ধটা নাকে নিয়ে খানিক বসে রইল। তারপর আবার উঠোন ঝাড়ুতে লাগল। পুরো বাড়ি নোংরা হয়ে আছে। চারদিকে জঞ্জাল আবর্জনাতে ভরে পড়েছে। এতো আবর্জনা যে কোত্থেকে জমে এসে। করে না করে না বলেও, সময় পেলেই সে ঝাড়ু নিয়ে উঠোন ঝাঁট দেয়। চারদিকটা ভালো করে দেখে নিলো। এতো সব খড়-কুটো এলো কোত্থেকে? কালী বুড়ির ঘরে চাল ফুটো হয়ে গেছে। যে ঘরটাকে সে পাকঘর করে ব্যবহার করে তার চালও ফুটো হয়ে গেছে। ফুটো চালে শালিক আর চড়াই পাখি বাসা করে আরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে খসিয়ে দিচ্ছে চাল। মণি আর কতটুকু করবে? টিন লাগিয়ে একটা ঘর তুলতেই তার কি কম পয়সা গেছে? দিনকে রাত করে খাটছে ছেলেটা। মিলিটারির মার খাবার পর থেকেই ওর ডান কাঁধে একটা ব্যথা। রোজ রাতে লবণ বাঁধা পোটলা একটা দিয়ে সেঁকা দিতে হয়। ঘুমের মধ্যে একাৎ ওকাৎ করতে গিয়ে প্রায়ই সে কোঁকিয়ে উঠে। বিয়ের ভাড়া নিয়ে গেছে, পুরো রাত ঐ গাড়ির সিটেই বসে থাকবে। ওর বিয়েটাও দিয়ে দিতে হবে। খড়-কুটোগুলো এক জায়গাতে জমা করে দাঁড়ালো মালতী। কোমর টনটন করছে। আজকাল টানা কোনও কাজ করতে গেলেই কোমরটা এমন টনটন করে উঠে। কালী বুড়ির ঘরটা পারছে ছেয়ে দিতে হবে। ঠাকুরের ঘরটা পাকা করে দেবার সময় মণি টিনের চালও লাগিয়ে দিয়েছিল। কে কবে লাগিয়েছিল এই সব খের । না পচে যাবে কই? কিছু একটা করতে হবে। খেরের দাম কি কম বেড়েছে? পাওয়াও যায় না আগের মতো। তার থেকে টিন লাগালে সস্তা পড়বে। কালী ঠাকুরের থানের পাশের চালাটা, কালী বুড়ির ঘরটা, এদের নিজেদের পাকা ঘর ----সব ক’টার চাল টিনই হোক , কিম্বা খের --কিছু একটা লাগাতে হবে। পুরো কাজটা করতে খরচ কেমন পড়বে হিসেব করতে সে বসে পড়ল।
     “ ও মণির মা, কী করছিস?” সেই জোনের মা। অসুখের পর থেকে তার আগের স্বাস্থ্য আর নেই, তাও যেটুকু মজবুত আছে তার ধারে কাছে বাকিরা টিকতে পারবে না। কী গাধার খাটুনি যে মানুষটি খাটতে পারে। ছেলে দু’টোকে নিয়ে দুই হাতে খেটে মানুষটি সংসার সামাল দিচ্ছে। জোনের মা ভেতরে এলো। হাতে একটা কাঁচি।
     “ধান কাটতে বেরুলি কই?”
    রোজকার মতো হাত-পা মেলে সে বসল।
    “ এই একটু কাশ বন কাটব গিয়ে ভাবছি। ঘরের চালটা যদি এখনই ঠিক না করি আসছে বর্ষাতে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে। এবারেই বেশ কয়েকটা জায়গাতে ফুটো হয়েছে। বাটি ঘটি দিয়ে রাখতে হয়।
    “কই কাটবি?”
    “ওই চেনিপাড়ার দিকে।”
    “কত দূরে?”
    “দূর কিছুটা আছে। রেল পথ ধরে গেলে কিছু সামনে পড়বে।”
    “একা একা যাবি?”
    “মিনতি, মীরার মায়েরাও যাবে।”
     “কখন যাবি?”
    মিনতি, মীরার মা, রত্না, ফুল সবাই এসেছে। সবার হাতে কাঁচি।
     মণির মা রোজকার মতো আজও অবাক হলো। ওদের সবার সঙ্গে ওর ব্যাপার স্যাপার মিলে যায় কী করে? সে যদি বা ভাবল একটা কম্বল কিনবে, দেখা যাবে কেউ এসে খবর দিয়ে যাচ্ছে, ওই দোকানে একটু ফুটো টুটো থাকা কম্বল সস্তাতে বিক্রি করছে। ইঁদুরে কেটেছিল। সামান্য তালি দিলেই হবে। কাপড় একটা কিনবার কথা বললে একজন বলে উঠবেই “ আমারটাও ছিঁড়েছে। গেলবার একসঙ্গে কিনেছি না? সাধনা বস্ত্রালয়ে জোড়া দেয়া শাড়ি এসেছে। আঁচল ভাল, পাকা রং। জোড়াটাও নজরে আসে না, দাম...” লাকড়ি চাই, শীত আসছে। একজনের বাড়িতে তুষ পাবেই, অন্যজন এসে গোবরের খবর দেবে। এক সঙ্গে সবার দাওয়াতে দেখা যাবে গোবর খুঁটির লাইন। হাওয়াই চপ্পল ক্ষয়ে যেতে যেতে আর ফিতে পালটানো যাচ্ছে না। একজন না একজন এসে বলবেই না, আগরওয়ালা স্টোর্সে কম দামে স্যান্ডেল দিচ্ছে। দোকানের সামনে চাল বাড়িয়ে দিয়ে দেদার স্যান্ডেল বের করে দিয়েছে, চিনিতে পিঁপড়ে পড়ার মতো গিয়ে উপচে পড়েছে মানুষে। পরদিন বাজারে যাবার পথে সবার পায়ে নতুন স্যান্ডেল। ক্ষয়ে যাওয়া, ফিতা পালটানো নয়—একেবারে নতুন চকচকে। আজও মিলে গেল। সেও ফুটো চাল নিয়ে ভাবছিল। ওরাও এসে গেছে।
     “আমিও যাই, দাঁড়া।” সে দরজা বন্ধ করতে গিয়ে ওদের দিকে তাকালো। “ আয় না, একটু চা খেয়ে যা এসে। আমিও যাবো।” সবাই এরা চা-মুড়ি নিয়ে বসল। সে রাতের জল দেয়া ভাতে একটা প্যাঁজ কেটে লংকা ভেঙ্গে মেখে নিলো। সকাল বেলাই যদি দু’টো ভাত পেটে পড়ে যায়, তবে আর গোটা দিনের জন্যে ভাবনা নেই। এই কথাতেও তার ওদের সঙ্গে মিল। সবাই লংকা ভেঙ্গে ঠাণ্ডা ভাত একটু একটু খেয়ে এসেছে।
     রাস্তাতে পা দিয়েই সে পাহাড়গুলোর দিকে তাকালো। আজ দেখা যাচ্ছে না। মেঘে ঢেকে রেখেছে। আবহাওয়াও একটু ভার। আকাশ জুড়ে ছেয়ে আছে হালকা কালি রঙের একটা চাদর। এরা বস্তি পেরিয়ে এলো। উজাড় করা জঙ্গল পেরিয়ে এলো। সেই জঙ্গলের ঠাঁই এখন ঘরই ঘর। ছেলেদের মিশন পার হলো। মিশনের সামনে রোজ ওদের চলাটা ধীর হয়ে আসে। কী করে এতো সাজিয়ে সুন্দর করে রাখে মিশনটা? গেলবছরে রোপণ করা হয়েছিল ছোট ছোট বোতামের মতো ইন্দ্রমালতী ফুলগুলো। সেগুলো আগে থেকেই ফুটে গিয়ে জকমকিয়ে রেখেছে ফুলের বাগান। মণির মা আন্মনেই বলে উঠল, “দেখ, কী সুন্দর এই ফুলগুলো!”
    
   
আবার চলার গতি দ্রুত হলো। কেক কেক করে একটা কাঠবেড়ালি এক নারকেল গাছ থেকে লাফিয়ে আরেকটা নারকেল গাছে চড়ে তৎক্ষণাৎ মিলিয়ে গেল। সবাই সেদিকে তাকালো। এখানে চারদিকে সার বেঁধে লাগানো নারকেল গাছে ঘেরা বিশাল উঠোনের এক বাড়ি আছে। শহরের এক বিশাল বড়লোকের বাড়ি। বিরাট ব্যবসা আছে। গ্যাসের ব্যবসা ছাড়াও শহরের মধ্যিখানে ঔষধের দোকান, জুতোর দোকান। আজ বছর খানেক হলো পরিবারটি উঠে চলে গেছে। জুতোর দোকানে বসত বড় ছেলেটাকে গুলি করে মেরেছিল। অনেক টাকা চেয়েছিল। ওই কাপড়ের বুড়ো দোকানীকে গুলি করে মারবার পরের ঘটনা। ছেলেটা আর্মি পুলিশকে খবর দিয়ে রেখেছিল। ওদের ছেলেরা সময় দেয়া মতোই টাকা নিতে এসেছিল। একটা আর্মির গুলিতে মরল, অন্যটি ধরা পড়ল। তার এক সপ্তাহ না যেতেই সবাই ভালো বাসে এমন শান্ত ছেলেটি রক্তগঙ্গাতে ডুবে গেল। তারপরেও এই পরিবারটি ছিল। বাড়ির মূল মানুষটিকে যখন গুলি করল, একরাতেই এরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেল। ভাগ্য ভালো যে মানুষটি বেঁচে গিয়েছিল। এতোদিন বাড়িটাতে তালা ছিল। স্বর্ণলতা গজিয়ে গাছগুলোকে হলদে করে ফেলেছিল। কাঠবেড়ালি মনের আনন্দে নারকেল গাছে গাছে ঘুরে ফল খেয়ে যাচ্ছিল। তলাটা ভরে গেছিল কাঠবেড়ালিতে খেয়ে ফুটো করে ফেলে দেয়া পচা নারকেলে। সে জায়গাটা পেরুলেই পচা নারকেলের ভাতের মাড়ের মতো গন্ধ একটা নাকে লাগে এসে। আজ এদের নাকে গন্ধটা লাগল না। বাড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখল দরজা জানালা সব খোলা হয়েছে। দু’টো লোক উঠে নারকেল গাছগুলো পরিষ্কার করছে। শুকনো পাতাগুলো কেটে ফেলছে, পাকা ফল সব পেড়ে ফেলছে। নারকেল খেতে এসে কিচ্ছু না পেয়ে কাঠবেড়ালি চিৎকার করেই পালিয়ে যাচ্ছে। কাঠবেড়ালির রাগ দেখে এদের হাসি পেয়ে গেল।
     “ পরিবারটা এলো মনে হয়।”
    “ঘর দোয়ার ছেড়ে এতোদিন এরা ছিল কই?”
    “আজ নিশ্চয় নিজের বাড়িতে ফিরে এদের বড় ভালো লাগছে।”
    “মেয়েরাও এসেছে।”
    “কী করে জানলি?”
    “ ভেতরের দিকে মেয়েদের কাপড় মেলে দিয়েছে।”
    “তোর চোখটা তো কম নয়!”
    সবাই বড় করে হাসা দিল। আসলে এতোদিন শ্মশানের মতো খালি পড়ে থাকা বাড়িটাতে মানুষজনের ফিরে আসা দেখে এদের মনটা এমনিই ভালো হয়ে গেল।
    “একেবারে থাকবে বলেই এসেছে হয়তো।”
    “ পরিবারটা থাকবে কী?”
    “ দেখ , থাকতে পারে কি না।”
    “হয়তো বাড়ি ঘরে অবস্থা দেখতেই এসেছে।”
    নিজেদের ভেতরে আলোচনা করতে করতেই ওদের মন ভার হয়ে এলো। কথা না বলে জোরে পা চালিয়ে এরা যেতে থাকল।
    প্রায় শহরের শেষে গিয়ে এরা রেলপথে উঠল। পথের পাশে পাশে পাথরের উপর দিয়ে চলতে থাকল। একটা মালগাড়ি পেরিয়ে গেল। ফুটুকা ১ , নাগা গাছের ২  ঝোপের মাঝে পড়ে এরা দাঁড়ালো কিছু। আবহাওয়া ফর্সা হচ্ছে। কোমল রোদের কিছু কিরণ চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়শ্রেণি নজরে আসছে। বাতাস ভেজা ভেজা। রেলের সেতুতে গিয়ে পৌছুলো। সিঁড়ির মতো ফাঁকা ফাঁকা সেতুটা এরা একে অন্যের হাত ধরে ধরে রেলের উপর দিয়ে পেরিয়ে গেল। এর নিচে দিয়েই চলে গেছে ছোট্ট নদী। ফুটফুটে পরিষ্কার জল। নদীর বুকের পাথরগুলো জিলকোচ্ছে। এক দল ছেলে মেয়ে হৈ চৈ করে সাঁতার কাটছে। নদীর পাড় দিয়ে এরা রেলের সেতুতে চড়ে। সেখান থেকে ঝপাং করে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জলের তোরে সেতুতে চোঁও চোও শব্দ একটা করে। রোদ পড়ে সেই ছিটকে বেরুনো জলকে দেওয়ালির সময়কার বাজি কলাগাছের মতো দেখায়। জলে তৈরি ফুলে ভরা একখানা গাছ গজায়, পর মুহূর্তে আবার মিলিয়ে যায়। এরা ক’জন ওখানে সামান্য দাঁড়িয়ে ছেলেমেয়েদের খেলাটা দেখল। তারপর আবার এগিয়ে গেল। বাচ্চারা অনেকেই ন্যাংটো। সেই ন্যাংটো শরীর দুলিয়ে নেচে নেচে এই মহিলাদের দেখে কী সব বলতে বলতে পাড় দিয়ে উঠল, আবার ঝাঁপিয়ে নদীতে পড়ল। এক সঙ্গে বেশ কয়েকটা জলে তৈরি ফুলভরা গাছ। এই গজায়, এই মিলিয়ে যায়।
     আরেকটু এগিয়ে রেলের আঁকা বাঁকা পথ ধরে গিয়ে এরা ঢালু পথে নেমে গেল। নেমে দাঁড়িয়ে পড়ল আবার। আপনিই এদের কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল। একটু সময়ের জন্যে সব কিছু ভুলে গেল এরা। শুধু তাকিয়ে রইল। আদি অন্তহীন একটি কাশ ফুলের সমুদ্র। ভেজা বাতাস কাশবনের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। যেদিকে যাচ্ছে সেদিকেই সাদা সমুদ্রের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। হালকা কালো এক টুকরো মেঘে সূর্য ঢেকে ফেলেছে। দেখা যাচ্ছে না সূর্য। শুধু মেঘের কিনার ধরে রূপালি পাড় নজরে এলো। কালো মখমলের কাপড়ের রূপালি আঁচলের ছেঁড়া অংশটা দিয়ে কয়েকটা রূপালি সুতো জিরজির করে এসে কাশবনের উপরে পড়ে গেল। যেখানে পড়ল সেখানেই একটা চুমকি বসিয়ে গেল। রূপালি চুমকি বসানো একটা সাদা পাটের চাদর ঢেউ খেলাতে খেলাতে নীল পাহাড়ে গিয়ে ঠেকল।
     কাশবনের ভেতরে চলে গেল এরা ক’জন। রূপালি কাজ করা মোলায়েম পাটের চাদরের তলায় লুকিয়ে পড়ল। ফেলানি এর আগে কখনো কাশবন কাটতে আসে নি। কোন ঘরের কোথায় চাল দিতে হবে, কোথায় বেড়া বসাতে হবে এসব কালীবুড়ি দেখত। দু’বারের মতো ঘরের চাল ছাওয়া সে দেখেছিল। ওসব কাশই ছিল না সন ওসব সে নজর দিয়ে দেখে নি। জোনের মায়েরা প্রতিবছরই কাটে। যেটুকু কাজে লাগে লাগিয়ে বাকি নল বিক্রি করে দেয়। খের-টিন যারা কিনতে পারে না সেসব মানুষের জন্যে এই বিনা পয়সার কাশবন বড় কাজে আসে। চাল ছাওয়া যায়, বেড়া দেয়া যায়। শক্ত করে ছাওয়া কাশের চাল খেরের থেকে কম কিছু নয়। এমনিতে সামান্য হালকা হয়, কিন্তু বাঁশে তৈরি রশি দিয়ে বেঁধে দিলে বর্ষাটা পেরিয়ে যায়। কাশের ডাঁটা দিয়ে বেড়া করে মাটি দিয়ে সামান্য লেপে দিলে আর যদি বৃষ্টির জল না পড়বার ব্যবস্থা করা যায় বেশ কিছু দিন টিকে থাকে। ফেলানি তাকিয়ে দেখে শুধু এরা ক’জনই নয় আরো অনেকে এসে কাশ কাটছে।
     কালো মেঘের থেকে সূর্য বেরিয়ে এলো। চুমকি বসানো চাদরটা আর নেই। তার জায়গাতে ওই বাচ্চা বিয়োনোর সঙ্গে সঙ্গে যে সোনা রঙের দুধ বেরোয় সেরকম রঙের মসৃণ তাঁতশাল থেকে এই মাত্র কেটে বের করে আনা একখানা পাটের চাদর বিছিয়ে গেল। ঢেউ খেলে খেলে পাহাড়ের কাছে পৌঁছে সেই চাদর হয়ে গেল একটা নদী। বুকে জল নয়, এই মাত্র খিরানো বাচ্চা বিয়োনো গাইর দুধ নিয়ে নদীটা এঁকে বেঁকে পাহাড়ের তলায় তলায় বয়ে গেল।
    
       
হাতে কাঁচি নিয়ে জোনের মায়েরা কাশ কাটতে শুরুই করে দিয়েছে। ওকে সামান্য অন্যরকম করতে দেখলেই ওর মুখের উপর কালো কালো চোখের মণিগুলো স্থির করে রেখে জিজ্ঞেস করবে, “ কী হলো রে, মণির মা?” রোজকার মতো আজও তার হাসি পেল। কিন্তু কিছু বলতে পারল না। দুধের নদী পাটের চাদরে ঢেকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া ফেলানিকে টেনে কাছে আনতে পারল না জোনের মা। কাশবন কাটা ছেড়ে সবাই তাকেই দেখছে। জোনের মা বলে উঠল, “ এই মণির মা, বল আবার। দেখ, কী সুন্দর কাশবনটা। আবার বল।” খিলখিলিয়ে হেসে ফেলল সবাই। এই হাসিই তাকে দুধের নদী থেকে পাড়ে টেনে আনল। শরীর থেকে খুলে ফেলল পাটের মোলায়েম চাদরখানা।
     “ তাই তো। দেখ কী সুন্দর!” কোমরে কাপড় প্যাঁচিয়ে সেও কাশ বন কাটতে শুরু করে দিল ।
    মীরার মা, জোনের মায়ের মতো সেই ঘন কাশবনের মধ্যে প্রথমে ঢোকে ঝোপ একটার চারপাশের গাছগুলো কেটে ফেলছে।তারপরে মাঝে পড়ে থাকা ঝোপটা কেটে মুঠো করে পাশে এক জায়গাতে রাখছে। কাশের ডাঁটার ভেতরের সাদা রসটা একবার ছুঁয়ে দেখল। কিছুটা আঠালো আর কষা। জোনের মায়েদের মতো এতো দ্রুত হাত চালাতে না পারলেও কেটে সে ঠিকই গেল। মাথার উপর দিয়ে ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে উড়োউড়ি করছে ছোট ছোট পাখি কিছু। পুরো কাশবন জুড়ে এই ছোট ছোট পাখির ঝাঁক। 
     “এতো এতো পাখি। লোকে যদি সব কাশ কেটে নিয়ে যায় , এরা থাকবে কই?”
    ওর প্রশ্ন শুনে বাকিরা হাসল।
    “এতো এতো কাশ। কে কেটে শেষ করতে পারবে রে?”
    “ এটা কী পাখি, দেখছিস?”
    “ বছরে বছরে টুনটুনি পাখিগুলো কমে আসছে।”
    “কী পাখি বললি?
    “টুনটুনি পাখি।”
    “ওই যে উড়ে গেল, ওগুলো কি টুনটুনি?”
    “চড়াই পাখির মতো পাখি।”
     “ওগুলোই টুনটুনি।”
    “আগে এরা ঝাঁকে ঝাঁকে পুরো কাশবন ভরে ছিল।”
    “গাঁয়ের মানুষ রাতে আগুন হাতে করে আসে।”
    “কাঁসি বাজিয়ে বাজিয়ে আসে।”
    “খাগড়াতে বানানো বাঁশিও বাজায়।”
    “পাখিগুলো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়।”
    “নিথর পাখিগুলোকে মেরে মেরে খায় গো লোকে, পারে কী করে!” টুনটুনির কথা বলতে বলতে এক সময় এরা চুপ করে গেল। চারদিকে শুধু কাঁচিতে কাশ কাটার শব্দ।
     কোমরটা সোজা করতে সামান্য দাঁড়ালো ফেলানি। পাহাড়গুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রঙ নীল হয়ে এসেছে। পাহাড়তলির নদীকে দেখতে লাগছে রাজহাঁস রোদ পোহাচ্ছে। শরীরে ঝিলিক । একবার হাত বুলোতে পারলেই যেন রেশমি ছোঁয়াতে সম্পূর্ণ শরীর শিরশিরিয়ে উঠবে।
     “পাহাড়ের নিচের কাশবনটা দেখতে নদীর মতো লাগে না?”
    “কী বলছে রে ও?”
    “সেতো নদীই ছিল।”
    “জল ছিল?”
    “নদীতে জল না থেকে কী থাকবে?”
     “তুই তখন বস্তিতে আসিসই নি।
    “তোর বিয়ে হয়েছিল?”
    “হয় নি, দিদির বাড়িতে ছিলাম।”
    “পাহাড়ের উপরের জালিমুখে তিনটা নদীই বাঁধ দিয়ে রাখা আছে। কেউ একবার বাঁধটা কেটে দিয়েছিল। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে জল উপচে এসে নদী তিনটা মিলে গেছিল।
    “কী জলই না হয়েছিল সেবারে!”
    “সেবারেই রাস্তার সব পুল ভেঙ্গে গিয়েছিল।
    “পুলগুলো ভাসিয়ে কোথায় যে ফেলেছিল নিয়ে।”
    “আমাদের বস্তি পুরো ডুবে গিয়েছিল।”
    “ঘরের ভেতরে কোমর অব্দি জল।”
    “ রাধিকা আর কৃষ্ণাই সঙ্গ নিয়েছিল।”
    “ দু’টো নদী মিলে এদিকটাতেই এগিয়ে এসেছিল।”
     “এ জায়গাটা তো ধানের খেত ছিল।”
     “কী ধানই না হয়েছিল সেবারে!”
    “বড় বড় থোক হয়েছিল।”
    “পুরো মাঠ জলে ভরে গিয়েছিল।”
    “ জল ছিল পুরো আট দিন।”
    “জল শুকোবার পরে চারদিকে শুধু বালিই বালি। মাঠটাকে তলায় ঢেকে ফেলল।”
“ এতো এতো কাশবন হলো কী করে বলে ভাবছিস?”
“কী করে হবে আবার?”
 “নদীর বানে গুটি ভেসে এসেছে।”
 “বাতাসে ভেসে এলো।”
 “গুটি যেখানেই পড়ল, সেখানেই গাছ হলো।”
 “কাশের বীজে পাখা আছে, বুঝলি?”
 “ ফুলগুলোই পাখা হয়ে গুটিগুলোকে উড়িয়ে আনে।”
 “নদীর জলে ডোবে না, ভেসে থাকে।”
 “বালি মাটিতে পড়লেই গাছ হয়।”
 কথা বলতে বলতে বেশ কিছু কাশ এরা কেটে ফেলল। আকাশে মেঘ আছে বলে সময়টা ঠিক ধরতে পারে নি। পেটে সবার কিঁউ কিঁউ করছে। বাজারে গেলে এতক্ষণে বন বা সেদ্ধ পিঠা একটা নিয়ে চা এক কাপ খেয়ে নিত।
 “চল যাই, বেশি করে কেটে ফেললে নিবি কী করে?” মীরার মা নিজের ভাগের কাশগুলো বেঁধে ফেলল।
     জোনের মায়েরাও বাঁধতে শুরু করে দিল। বাতাস ঠাণ্ডা হয়ে আসছে। আবহাওয়া আবার ভার হয়ে এসেছে। সবার বাঁধা হয়ে গেছে, আর ভাবতে না ভাবতে হঠাৎই বৃষ্টি নেমে এলো। বর্ষার বৃষ্টির মতো হুড়হুড় করে নামে নি। ইলশে গুড়ি। তাড়াতাড়ি কাশের বোঝা এরা মাথাতে তুলে নিলো। বোঝার আড়ালে এদের মুখ ঢাকা পড়ে গেল। রেল পথ ধরে এরা এগিয়ে গেল। রেল সেতুর তলাতে ছেলেগুলো নেই। জায়গাটা এখন নির্জন পড়ে আছে। সেখানে সামান্য দাঁড়ালো এরা। সাবধানে ফাঁকা ফাঁকা জায়গা আর কাঠগুলো দেখে দেখে একে একে পেরিয়ে এলো। আবার হাঁটা দিল।
 বৃষ্টি পড়ে পড়ে কাশের বোঝাগুলো ভিজে গেছে।
“জোনের মা, কাশগুলো সব ভিজে গেল যে! এখন?” ভাবনায় পড়ে জিজ্ঞেস করল ফেলানি।
“ভিজলে কী হবে?”
“পচে যাবে না?”
“রোদে মেলে দিবি, শুকিয়ে যাবে।”
“আর রোদ না দিলে?”
 “কী যে বলছিস মণির মা, আশ্বিনের বৃষ্টি আর কদিন থাকে?”
 “ পচলে আবার এসে কাটবি।”
 “এতো এতো কাশবন কে কেটে শেষ করতে পারবে?”
 “কাশবনের গুটির পাখা আছে।”
 “নদীতে ভাসে গুটি।”
 “উড়ে আসে।”
 “ উদোম বালি মাটিতে পড়লেই গাছ হয়।”
     কেউ কারো মুখ দেখছে না। ভেজা কাশের বোঝার নিচে মুখ ঢাকা পড়েছে। সবাই জোরে পা চালাচ্ছে। সংসারের সারা রাজ্যের কাজ পড়ে আছে। রোদ দিলে কাশগুলো শুকোতে হবে। বেড়া দিতে হবে, চাল ছাইতে হবে। মেঘ না কাটলে যদি পচে যায় তবে আবার এসে কাশ কেটে নিয়ে যেতে হবে।
    কাশবনের বোঝার নিচে ঢাকা মুখ নিয়েই  এই ক'জন  মেয়ে মানুষ যাচ্ছে , এগিয়ে যাচ্ছে...
টীকা:
    ১) ফুটুকাঃ সাধারণত সড়ক, রেলপথ বা পাহাড় টিলাতে এই ছোট গাছগুলো দেখা যায়। বৈজ্ঞানিক নামঃMelastoma malabatricum
    ২) নাগাগাছঃ অসমিয়াতে শব্দটি নগাবন। পঞ্চম অধ্যায় দেখুন।

0 মন্তব্য(সমূহ):

ফেলানিঃ আধুনিক অসমিয়া উপন্যাস

বাছাই পোষ্ট

অধ্যায় এক (১)

ফেলানি ( 'ব্যতিক্রম' মাসিক কাগজে ধারাবাহিক বেরুতে শুরু করল 'ফেলানি' জুন , ২০১৪ থেকে। )        ফে রিখানা ব্...

ই-মেইলে গ্রাহক হোন

Enter your email address:

Delivered by FeedBurner

আমাকে চিঠি লিখুন

ভারতীয় ব্লগার দল

যারা পড়তে আসেন

ফেসবুকের সঙ্গীরা এ পথে জুড়তে পারেন

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন?

এই বিশাল ধরিত্রীর কোন বিন্দু থেকে কে এলেন? ০২

যারা নিয়মিত ফেলানি পড়েন

যে ক'জন এখানে এলেন

কে কী বললেন

আমাদের অলঙ্করণ সহযোগী

বাংলা ব্লগের প্রবাহে জুড়ুন !

কালের পদধ্বনি

ক' ফোটা স্বচ্ছ জলের সন্ধানে

Powered by Blogger.

ফেলানি

I heart FeedBurner

Blog Archive

কেমন লাগল বলুন !

এখানে আমার অনুবাদ দেখুন

এই ব্লগ সম্পর্কে

ইংরাজি সাহিত্যের ডক্টরেট অরূপা পটঙ্গীয়া কলিতা আধুনিক অসমিয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নামপাঠক-সমালোচক মহলে বিপুলভাবে সমাদৃত এই লেখক ইতিমধ্যে বেশ কিছু পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেনসেগুলো মধ্যে আছে ১৯৯৩তে পশ্চিম বাংলার সাহিত্য সেতুনামের লিটিল ম্যাগাজিনের থেকে শৈলেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত সাহিত্য সেতু পুরস্কার, ১৯৯৫তে ভারতীয় ভাষা পরিষদ পুরস্কার, ১৯৯৮তে দিল্লির কথানামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর দেয়া কথা পুরস্কার১৯৯৫তে অসম সাহিত্য সভার দেয়া বাসন্তী বরদলৈ স্মৃতি পুরস্কারদিতে চেয়েছিলকিন্তু তিনি এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে সাহিত্য কর্মে তিনি লেখকের লিঙ্গভেদ মানেন না

১৯৯৪তে প্রকাশিত তাঁর অয়নান্তনামের উপন্যাসটি অসমিয়া উপন্যাসের প্রথম শ্রেণির গুটি কয় উপন্যাসের মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হয়ে থাকেঅয়নান্তের নবছর পর তিনি লেখেন এই বিখ্যাত উপন্যাস ফেলানি২০০৩এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের পটভূমি গেল কয়েক দশকের জাতি-দাঙ্গাতে অভিশপ্ত ও অশান্ত অসমজাতি-দাঙ্গা ও উগ্রপন্থার শিকার দরিদ্র মানুষের যন্ত্রণাক্লিষ্ট জীবনের এক মর্মস্পর্শী উপন্যাস এটিফেলানির চরিত্রগুলোর অবস্থান সমাজের প্রান্তে , কেন্দ্রে নয়সমাজ যে মানুষগুলোকে দূরে নিক্ষেপ করছে তাদের প্রতীকআবার সমাজের কেন্দ্রকে উপেক্ষা করে প্রান্তীয়তাতেই নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করবার যে প্রক্রিয়া তার ব্যঞ্জনা-ঋদ্ধ এক সত্তার নামও ফেলানিমৃত্যু যেমন সহজ তেমনি জীবনের প্রতি সুতীব্র ভালোবাসাও মৃত্যুর বিপরীতে উপস্থাপিতজাতি-ধর্ম নয়, সুবিশাল মানবতার পরিচয়েই ফেলানির পরিচয়ফেলানির পৃথিবীতে অজস্র চরিত্র আর বিচিত্র ঘটনার মধ্য দিয়ে নিষ্করুণ সমাজ সত্য এবং বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে পাঠক যাত্রা করবেন সামাজিক উপলব্ধির অন্য এক সীমান্তের দিকে

টংলা মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অরূপা দামলনামের সাহিত্য-সংস্কৃতি মূলক অব্যবসায়িক সাময়িকীর সম্পাদনা সহযোগীতাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলঃ মৃগনাভি ( ১৯৮৭), মেপল হাবির রং ( ১৯৮৯), মরুযাত্রা আরু অন্যান্য ( ১৯৯২), অয়নান্ত ( ১৯৯৪), মরুভূমিত মেনকা আরু অন্যান্য (১৯৯৫), কাঁইটত কেতেকী (১৯৯৯), পাছ চোতালর কথকতা (২০০০) , অরুণিমার স্বদেশ (২০০০), মিলিনিয়ামর সপোন (২০০২)


অনেকদিন ধরে আমার স্বপ্ন ছিল এই শিরদাড়া খাড়া করা উপন্যাসখানি বাংলাতে অনুবাদ করবার। এবারে সেই ইচ্ছে পূরণ হলো


আমাকে নিয়ে

My photo
Tinsukia, Assam, India